কিশোরীদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি ও সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘নির্ভয় নারী’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আগামী নয় মাস ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। সভাপতিত্ব করেন জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি-এর সভাপতি নাসরীন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন, কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন এবং কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি। তাঁরা কিশোরীদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধ, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্তকরণ এবং সংকটের সময় যথাযথ সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন বলেন, কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের শুধু সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানালেই হবে না, বরং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করা, নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে শেখানোও জরুরি। কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের ঘটনায় নীরব না থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একটি মেয়েকে ভয় দেখিয়ে নিরাপদ রাখা যায় না; তাকে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হয়। আমরা চাই, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েরা নিজেদের অধিকার জানবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবে এবং প্রয়োজনের সময় নিজের ও অন্যের পাশে দাঁড়াবে।
কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি কিশোরীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব এবং ভুক্তভোগীর প্রতি সমাজের আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার একজন কিশোরীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। তাকে দোষারোপ করা বা প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে নিয়ে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সঠিক সময়ে সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি-এর সভাপতি নাসরীন খান তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা শুধু একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করতে আসিনি, আমরা একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে এসেছি—একজন নারী কেন ভয় নিয়ে পথ চলবে? কেন তার নিরাপত্তা অন্য কারও দয়ার ওপর নির্ভর করবে? কেন অন্যায়ের শিকার হয়েও তাকে চুপ থাকতে হবে? আমাদের উত্তর একটাই—না। নারী ভয় পেয়ে বাঁচবে না, নারী মাথা নিচু করে বাঁচবে না, নারী নিজের অধিকার না জেনে বাঁচবে না। সেই বিশ্বাস থেকেই আজ শুরু হচ্ছে আমাদের নয় মাসের পথচলা—‘নির্ভয় নারী’।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান কিশোরীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করে গড়ে তুলতে ‘নির্ভয় নারী’র মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। নয় মাসব্যাপী এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এসব কার্যক্রমে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধ, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা, হয়রানির পরিস্থিতি মোকাবিলা, জরুরি অবস্থায় সহায়তা চাওয়া এবং নিজের পাশাপাশি অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
‘নির্ভয় নারী’ প্রকল্পে ওয়েলনেস পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে স্কিনো। শরীর ও মনের সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে হাইজিন পার্টনার হিসেবে নীলা স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিশোরীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, মাসিক স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসচেতনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে নীলা স্যানিটারি ন্যাপকিনের জেনারেল ম্যানেজার টিটু মিয়া নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব সময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও এই অংশীদারিত্ব ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে জোন্টা ক্লাবের সহ-সভাপতি সানজিদা হক বলেন, একটি মেয়েকে সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও নিজের অধিকার সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পারলে সে শুধু নিজেকেই নিরাপদ রাখতে পারবে না; পরিবার, সহপাঠী এবং বৃহত্তর সমাজকেও সচেতন করে তুলতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই আগামী নয় মাসে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সচেতনতা, অধিকার, স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাস—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি ও সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হলো ‘নির্ভয় নারী’র নয় মাসের পথচলা।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
কিশোরীদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি ও সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘নির্ভয় নারী’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আগামী নয় মাস ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। সভাপতিত্ব করেন জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি-এর সভাপতি নাসরীন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন, কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন এবং কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি। তাঁরা কিশোরীদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধ, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্তকরণ এবং সংকটের সময় যথাযথ সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন বলেন, কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের শুধু সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানালেই হবে না, বরং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করা, নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে শেখানোও জরুরি। কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের ঘটনায় নীরব না থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একটি মেয়েকে ভয় দেখিয়ে নিরাপদ রাখা যায় না; তাকে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হয়। আমরা চাই, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েরা নিজেদের অধিকার জানবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবে এবং প্রয়োজনের সময় নিজের ও অন্যের পাশে দাঁড়াবে।
কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি কিশোরীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব এবং ভুক্তভোগীর প্রতি সমাজের আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার একজন কিশোরীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। তাকে দোষারোপ করা বা প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে নিয়ে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সঠিক সময়ে সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি-এর সভাপতি নাসরীন খান তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা শুধু একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করতে আসিনি, আমরা একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে এসেছি—একজন নারী কেন ভয় নিয়ে পথ চলবে? কেন তার নিরাপত্তা অন্য কারও দয়ার ওপর নির্ভর করবে? কেন অন্যায়ের শিকার হয়েও তাকে চুপ থাকতে হবে? আমাদের উত্তর একটাই—না। নারী ভয় পেয়ে বাঁচবে না, নারী মাথা নিচু করে বাঁচবে না, নারী নিজের অধিকার না জেনে বাঁচবে না। সেই বিশ্বাস থেকেই আজ শুরু হচ্ছে আমাদের নয় মাসের পথচলা—‘নির্ভয় নারী’।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান কিশোরীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করে গড়ে তুলতে ‘নির্ভয় নারী’র মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। নয় মাসব্যাপী এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এসব কার্যক্রমে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধ, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা, হয়রানির পরিস্থিতি মোকাবিলা, জরুরি অবস্থায় সহায়তা চাওয়া এবং নিজের পাশাপাশি অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
‘নির্ভয় নারী’ প্রকল্পে ওয়েলনেস পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে স্কিনো। শরীর ও মনের সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে হাইজিন পার্টনার হিসেবে নীলা স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিশোরীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, মাসিক স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসচেতনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে নীলা স্যানিটারি ন্যাপকিনের জেনারেল ম্যানেজার টিটু মিয়া নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব সময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও এই অংশীদারিত্ব ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে জোন্টা ক্লাবের সহ-সভাপতি সানজিদা হক বলেন, একটি মেয়েকে সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও নিজের অধিকার সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পারলে সে শুধু নিজেকেই নিরাপদ রাখতে পারবে না; পরিবার, সহপাঠী এবং বৃহত্তর সমাজকেও সচেতন করে তুলতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই আগামী নয় মাসে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সচেতনতা, অধিকার, স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাস—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে জোন্টা ক্লাব অব ঢাকা থ্রি ও সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হলো ‘নির্ভয় নারী’র নয় মাসের পথচলা।

আপনার মতামত লিখুন