সারা দেশে কলেরা প্রতিরোধে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ১৪৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে কলেরা প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু ৯০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন করেছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এক বছর বা তার বেশি বয়সীদের এই টিকা দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যক্তিকে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা। এই টিকার ডোজের অর্থায়ন করেছে ‘গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স’ এবং সংগ্রহ ও সরবরাহ করছে ইউনিসেফ।
প্রথম পর্যায়ে যে এলাকাগুলোতে এই কর্মসূচি চলছে সেগুলো হলো—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সীগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই এলাকাগুলো কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত, যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক, কারণ আমরা শুধু কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি না; বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে এটি খুব দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে।
আইসিডিডিআর,বি-র সংক্রমণ রোগ বিভাগের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট এবং গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ড. ফেরদৌস কাদরী বলেন, দুই ডোজের এই ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। বাংলাদেশে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, এই টিকা ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। প্রথম রাউন্ড চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় রাউন্ড চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ দিনের ব্যবধান বজায় রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী এক বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এই মুখে খাওয়া টিকা পাওয়ার যোগ্য।
তবে গর্ভবর্তী নারী, টিকার কোনো উপাদানে তীব্র অ্যালার্জির ইতিহাস থাকা ব্যক্তি এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের এই টিকা দেওয়া হবে না। এই কর্মসূচিতে ‘ইউভিকোল’ এবং ‘ইউভিকোল-এস’ ব্যবহার করা হবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ইউবায়োলজিক্স কোং লিমিটেড উৎপাদিত ডব্লিউএইচও-অনুমোদিত দুইটি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন।
নিবন্ধন, টিকাদানের রেকর্ড এবং কভারেজ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পেইনে ‘ভ্যাক্সআইপি’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আইসিডিডিআর,বি বাংলাদেশ সরকারকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বি গবেষক ফিরদাউসী কাদরী প্রমুখ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় আমরা ১৭টি ওয়ার্ডেও এই কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ঢাকা উত্তরের আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিলে তা মানুষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর রোগের অতিরিক্ত বোঝা কমাবে।
তিনি শহর, প্রত্যন্ত গ্রাম, চর ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের কাছে টিকাদান ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। টিকার পাশাপাশি নিরাপদ পানি, সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই কর্মসূচি মূলত বাংলাদেশের ১৪৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রতিরোধমূলক কলেরা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের বহুবর্ষীয় পরিকল্পনার একটি অংশ।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
সারা দেশে কলেরা প্রতিরোধে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ১৪৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে কলেরা প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু ৯০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন করেছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এক বছর বা তার বেশি বয়সীদের এই টিকা দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যক্তিকে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা। এই টিকার ডোজের অর্থায়ন করেছে ‘গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স’ এবং সংগ্রহ ও সরবরাহ করছে ইউনিসেফ।
প্রথম পর্যায়ে যে এলাকাগুলোতে এই কর্মসূচি চলছে সেগুলো হলো—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সীগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই এলাকাগুলো কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত, যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক, কারণ আমরা শুধু কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি না; বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে এটি খুব দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে।
আইসিডিডিআর,বি-র সংক্রমণ রোগ বিভাগের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট এবং গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ড. ফেরদৌস কাদরী বলেন, দুই ডোজের এই ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। বাংলাদেশে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, এই টিকা ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। প্রথম রাউন্ড চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় রাউন্ড চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ দিনের ব্যবধান বজায় রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী এক বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এই মুখে খাওয়া টিকা পাওয়ার যোগ্য।
তবে গর্ভবর্তী নারী, টিকার কোনো উপাদানে তীব্র অ্যালার্জির ইতিহাস থাকা ব্যক্তি এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের এই টিকা দেওয়া হবে না। এই কর্মসূচিতে ‘ইউভিকোল’ এবং ‘ইউভিকোল-এস’ ব্যবহার করা হবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ইউবায়োলজিক্স কোং লিমিটেড উৎপাদিত ডব্লিউএইচও-অনুমোদিত দুইটি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন।
নিবন্ধন, টিকাদানের রেকর্ড এবং কভারেজ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পেইনে ‘ভ্যাক্সআইপি’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আইসিডিডিআর,বি বাংলাদেশ সরকারকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বি গবেষক ফিরদাউসী কাদরী প্রমুখ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় আমরা ১৭টি ওয়ার্ডেও এই কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ঢাকা উত্তরের আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিলে তা মানুষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর রোগের অতিরিক্ত বোঝা কমাবে।
তিনি শহর, প্রত্যন্ত গ্রাম, চর ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের কাছে টিকাদান ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। টিকার পাশাপাশি নিরাপদ পানি, সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই কর্মসূচি মূলত বাংলাদেশের ১৪৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রতিরোধমূলক কলেরা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের বহুবর্ষীয় পরিকল্পনার একটি অংশ।

আপনার মতামত লিখুন