গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফের আবাসিকে চুলা জ্বলছে না অনেক এলাকায়। সিএনজি স্টেশনে গ্যাস পেতে দেরি হওয়ায় গাড়ির লাইন লম্বা হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বেড়েছে লোডশেডিং। শিল্পকারখানার উৎপাদনেও ভাটা পড়েছে।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো না থাকায় গ্যাস-সংকট আরও তিন দিন থাকতে পারে। আগমী ২৩ আগস্ট একটি এলএনজি কার্গো (জাহাজ) আসতে পারে। সেদিন থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পূর্ণ সক্ষমতায় চলা শুরু হবে। তখন পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সরকারি হিসাবে, দেশে দিনে গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এরমধ্যে এলএনজিকে গ্যাসের রূপান্তর করে দৈনিক জাতীয় গ্রিড পাইপলাইনে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। এলএনজি থেকে এসেছে ৫৭ কোটি ঘনফুট।
এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের। এক্সিলারেটের দৈনিক সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সর্বোচ্চ ৫০ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুরোদমে এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। সোমবার থেকে তাদের সরবরাহ কমতে থাকে; বুধবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘কম দামে’ এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। আগস্টে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। এখন টার্মিনাল তৈরি থাকলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, আগামী রোববার বা সোমবার কার্গো আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে গ্যাসের অভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় অধিকাংশ কারখানা গত এক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে বলে গতকাল বুধবার সিপিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পমালিকেরা অভিযোগ করেছেন।
গ্যাসের সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার অতিক্রম করলে লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের ঘর অতিক্রম করছে। আবার চাহিদা ১৫ হাজারের নিচে নেমে এলে লোডশেডিংও এক হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্যাসের অভাবে ২১টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও আটটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এই ২৯টি কেন্দ্র পুরোদমে সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারতো।
বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে চলতি আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করছে সরকার। গত ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফের আবাসিকে চুলা জ্বলছে না অনেক এলাকায়। সিএনজি স্টেশনে গ্যাস পেতে দেরি হওয়ায় গাড়ির লাইন লম্বা হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বেড়েছে লোডশেডিং। শিল্পকারখানার উৎপাদনেও ভাটা পড়েছে।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো না থাকায় গ্যাস-সংকট আরও তিন দিন থাকতে পারে। আগমী ২৩ আগস্ট একটি এলএনজি কার্গো (জাহাজ) আসতে পারে। সেদিন থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পূর্ণ সক্ষমতায় চলা শুরু হবে। তখন পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সরকারি হিসাবে, দেশে দিনে গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এরমধ্যে এলএনজিকে গ্যাসের রূপান্তর করে দৈনিক জাতীয় গ্রিড পাইপলাইনে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। এলএনজি থেকে এসেছে ৫৭ কোটি ঘনফুট।
এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের। এক্সিলারেটের দৈনিক সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সর্বোচ্চ ৫০ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুরোদমে এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। সোমবার থেকে তাদের সরবরাহ কমতে থাকে; বুধবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘কম দামে’ এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। আগস্টে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। এখন টার্মিনাল তৈরি থাকলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, আগামী রোববার বা সোমবার কার্গো আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে গ্যাসের অভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় অধিকাংশ কারখানা গত এক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে বলে গতকাল বুধবার সিপিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পমালিকেরা অভিযোগ করেছেন।
গ্যাসের সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার অতিক্রম করলে লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের ঘর অতিক্রম করছে। আবার চাহিদা ১৫ হাজারের নিচে নেমে এলে লোডশেডিংও এক হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্যাসের অভাবে ২১টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও আটটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এই ২৯টি কেন্দ্র পুরোদমে সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারতো।
বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে চলতি আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করছে সরকার। গত ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন