সংবাদ

বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৩ ইউনিয়ন


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৩ ইউনিয়ন
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ার-ভাটার অব্যাহত তোড়ে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ২০০ ফুট চর। ভাঙন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মূল সড়ক থেকে নদীর দূরত্ব কোথাও কোথাও মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে কাদাকাটি, কুল্যা ও দরগাপুর ইউনিয়নসহ পাশের তালা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাদাকাটি ইউনিয়নের বৈরামপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার এই বেড়িবাঁধটি মূলত একটি কার্পেটিং করা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এর উত্তর প্রান্তে গুনাকরকাটি সেতু এবং দক্ষিণে তেঁতুলিয়া বাজার। গত কয়েক মাস ধরে নদীভাঙনে চর ধসে ধসে রাস্তাটির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে।

স্থানীয় বৈরামপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘নদীর চরে প্রায় ৩০ ফুটের মতো গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। আর সামান্য ভাঙলেই পিচঢালা রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাবে। তখন নোনা পানি ঢুকে সব একাকার হয়ে যাবে।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে কেবল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার এসে পরিমাপ করে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই কাজ শুরু হবে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, তিনি দ্রুতই এলাকাটি পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৩ ইউনিয়ন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ার-ভাটার অব্যাহত তোড়ে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ২০০ ফুট চর। ভাঙন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মূল সড়ক থেকে নদীর দূরত্ব কোথাও কোথাও মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে কাদাকাটি, কুল্যা ও দরগাপুর ইউনিয়নসহ পাশের তালা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাদাকাটি ইউনিয়নের বৈরামপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার এই বেড়িবাঁধটি মূলত একটি কার্পেটিং করা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এর উত্তর প্রান্তে গুনাকরকাটি সেতু এবং দক্ষিণে তেঁতুলিয়া বাজার। গত কয়েক মাস ধরে নদীভাঙনে চর ধসে ধসে রাস্তাটির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে।

স্থানীয় বৈরামপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘নদীর চরে প্রায় ৩০ ফুটের মতো গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। আর সামান্য ভাঙলেই পিচঢালা রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাবে। তখন নোনা পানি ঢুকে সব একাকার হয়ে যাবে।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে কেবল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার এসে পরিমাপ করে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই কাজ শুরু হবে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, তিনি দ্রুতই এলাকাটি পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত