সংবাদ

রংপুরে ৪ খুনের তদন্ত ‘সাজানো নাটক’, তিন দিনের আলটিমেটাম


লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

রংপুরে ৪ খুনের তদন্ত ‘সাজানো নাটক’, তিন দিনের আলটিমেটাম
ছবি : সংবাদ

রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যকে ‘সাজানো নাটক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) রংপুরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন তারা। এ সময় প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সত্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা হলে নগরী অচল করে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মাসুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়াম চক্রবর্তী। শনিবার রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল যুবক-মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। শিক্ষক গণপতি তাদের বাধা দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। একে একে স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থীকেও একইভাবে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়ামকেও খুন করে তারা। খুনিরা সারা রাত ওই বাড়িতে অবস্থান করে গোসল করে এবং খাবার খায়। ঘটনাটি ডাকাতি বলে চালিয়ে দিতে আসবাবপত্র তছনছ করে মালামাল লুট করা হয় বলে দাবি করেন কমিশনার। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। তবে ওই সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং আসামিদের জবানবন্দি বা আদালতে তোলার বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে পুলিশের এই দাবি মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নগরীর কাছারী বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভ সমাবেশে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক শফিয়ার রহমান পুলিশের তদন্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী স্যার এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার যে ব্যাখ্যা পুলিশ দিয়েছে তা হাস্যকর।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন, দুইজন মাদকসেবী স্রেফ ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরপর চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এরপর তারা নাকি শান্ত মাথায় ওই বাসায় গোসল করেছে এবং ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেয়েছে। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ তো বটেই, এমনকি কোনো পাগলও পুলিশের এমন আজগুবি গল্প বিশ্বাস করবে না। এই পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা মনে করি, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতেই এমন গল্পের অবতারণা করা হয়েছে।’

পুলিশের তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরে সাবেক শিক্ষার্থী শরিফুল বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে গণপতি স্যারের মেয়ে প্রার্থীর মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, শ্বাসরোধ করার সময় তার চোয়াল ভেঙে গেছে এবং চোখ দুটি বের হয়ে এসেছে। কিন্তু ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, এমন কোনো আলামত তারা পাননি। যখন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যর সরাসরি সংঘাত দেখা দেয়, তখন আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে পুলিশের তদন্তের ওপর আস্থা রাখব? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী ডলার প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও তার ছোট সন্তানসহ চারজনকে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ মাদক নয়, এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য আছে। পুলিশ যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে খুনি সাজিয়েছে, তাদের দিয়ে এই কাজ করানো সম্ভব কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ রয়েছে। আমরা ৩ দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসল খুনিদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে রংপুর নগরীকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হবে। ছাত্র সমাজ এই মিথ্যে তদন্ত মেনে নেবে না।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে মহিলা পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি রুমানা জামান বলেন, ‘রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে চারজন মানুষকে খুন করা হলো, আর পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি চিত্রনাট্য সাজিয়ে ফেলল। এই নাটকের সংলাপ হয়তো ভালো হয়েছে, কিন্তু রংপুরের মানুষ এই সস্তা গল্প পছন্দ করেনি। মাত্র দুইজন মানুষ কয়েক মিনিটের মধ্যে কোনো চিৎকার বা ধস্তাধস্তি ছাড়া চারজন সুস্থ মানুষকে মেরে ফেলল-এটা বাস্তবে সম্ভব নয়। আমরা চাই প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত হোক, কোনো বলির পাঁঠা দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি ধামাচাপা দেওয়া না হোক।’

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলে বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। ঘটনার দুই দিন পর লাশ উদ্ধার হওয়া এবং তারপর দ্রুততম সময়ে একটি দুর্বল অজুহাত দিয়ে মামলাটি ক্লোজ করার চেষ্টা করা সন্দেহজনক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। বর্তমান তদন্তের ওপর আমাদের ভরসা নেই, তাই আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত কুশীলবদের খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ কমিশনার দাবি করেছিলেন নিহত প্রার্থীর চোয়াল ভাঙা ও চোখ বের হওয়া ছিল, কিন্তু ময়নাতদন্তে এমন কোনো আলামত মেলেনি। তবে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে নিহত প্রার্থীর শারিরীক অবস্থার কিছু অমিল রয়েছে। তার চোয়াল ভাঙা বা চোখ বের হয়ে আসার কোনো চিহ্ন আমরা পাইনি। এছাড়া শরীরে কোনো রাসায়নিক বা এসিড ব্যবহারের আলামতও মেলেনি। ফরেনসিক রিপোর্ট আসার আগে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ বা ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে রংপুর নগরীতে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


রংপুরে ৪ খুনের তদন্ত ‘সাজানো নাটক’, তিন দিনের আলটিমেটাম

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যকে ‘সাজানো নাটক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) রংপুরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন তারা। এ সময় প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সত্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা হলে নগরী অচল করে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মাসুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়াম চক্রবর্তী। শনিবার রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল যুবক-মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। শিক্ষক গণপতি তাদের বাধা দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। একে একে স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থীকেও একইভাবে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়ামকেও খুন করে তারা। খুনিরা সারা রাত ওই বাড়িতে অবস্থান করে গোসল করে এবং খাবার খায়। ঘটনাটি ডাকাতি বলে চালিয়ে দিতে আসবাবপত্র তছনছ করে মালামাল লুট করা হয় বলে দাবি করেন কমিশনার। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। তবে ওই সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং আসামিদের জবানবন্দি বা আদালতে তোলার বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে পুলিশের এই দাবি মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নগরীর কাছারী বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভ সমাবেশে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক শফিয়ার রহমান পুলিশের তদন্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী স্যার এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার যে ব্যাখ্যা পুলিশ দিয়েছে তা হাস্যকর।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন, দুইজন মাদকসেবী স্রেফ ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরপর চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এরপর তারা নাকি শান্ত মাথায় ওই বাসায় গোসল করেছে এবং ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেয়েছে। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ তো বটেই, এমনকি কোনো পাগলও পুলিশের এমন আজগুবি গল্প বিশ্বাস করবে না। এই পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা মনে করি, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতেই এমন গল্পের অবতারণা করা হয়েছে।’

পুলিশের তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরে সাবেক শিক্ষার্থী শরিফুল বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে গণপতি স্যারের মেয়ে প্রার্থীর মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, শ্বাসরোধ করার সময় তার চোয়াল ভেঙে গেছে এবং চোখ দুটি বের হয়ে এসেছে। কিন্তু ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, এমন কোনো আলামত তারা পাননি। যখন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যর সরাসরি সংঘাত দেখা দেয়, তখন আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে পুলিশের তদন্তের ওপর আস্থা রাখব? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী ডলার প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও তার ছোট সন্তানসহ চারজনকে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ মাদক নয়, এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য আছে। পুলিশ যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে খুনি সাজিয়েছে, তাদের দিয়ে এই কাজ করানো সম্ভব কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ রয়েছে। আমরা ৩ দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসল খুনিদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে রংপুর নগরীকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হবে। ছাত্র সমাজ এই মিথ্যে তদন্ত মেনে নেবে না।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে মহিলা পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি রুমানা জামান বলেন, ‘রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে চারজন মানুষকে খুন করা হলো, আর পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি চিত্রনাট্য সাজিয়ে ফেলল। এই নাটকের সংলাপ হয়তো ভালো হয়েছে, কিন্তু রংপুরের মানুষ এই সস্তা গল্প পছন্দ করেনি। মাত্র দুইজন মানুষ কয়েক মিনিটের মধ্যে কোনো চিৎকার বা ধস্তাধস্তি ছাড়া চারজন সুস্থ মানুষকে মেরে ফেলল-এটা বাস্তবে সম্ভব নয়। আমরা চাই প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত হোক, কোনো বলির পাঁঠা দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি ধামাচাপা দেওয়া না হোক।’

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলে বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। ঘটনার দুই দিন পর লাশ উদ্ধার হওয়া এবং তারপর দ্রুততম সময়ে একটি দুর্বল অজুহাত দিয়ে মামলাটি ক্লোজ করার চেষ্টা করা সন্দেহজনক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। বর্তমান তদন্তের ওপর আমাদের ভরসা নেই, তাই আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত কুশীলবদের খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ কমিশনার দাবি করেছিলেন নিহত প্রার্থীর চোয়াল ভাঙা ও চোখ বের হওয়া ছিল, কিন্তু ময়নাতদন্তে এমন কোনো আলামত মেলেনি। তবে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে নিহত প্রার্থীর শারিরীক অবস্থার কিছু অমিল রয়েছে। তার চোয়াল ভাঙা বা চোখ বের হয়ে আসার কোনো চিহ্ন আমরা পাইনি। এছাড়া শরীরে কোনো রাসায়নিক বা এসিড ব্যবহারের আলামতও মেলেনি। ফরেনসিক রিপোর্ট আসার আগে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ বা ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে রংপুর নগরীতে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত