রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এই মামলার প্রধান দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত মামলার প্রধান সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ঘটনার ছয় দিন পার হলেও আসামিদের মাদক সেবন পরীক্ষার জন্য 'ডোপ টেস্ট' না হওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার কড়া গোপনীয়তার মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি দেন সীমান্ত। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম তার খাসকামরায় এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সীমান্তকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসে। দিনভর তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হলেও তিনি আসামি নাকি সাক্ষী–সে বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। তবে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, সীমান্ত মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যাওয়ার আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তাঁর বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্ত আদালতে যে তথ্য দিয়েছেন, তা আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। আসামিরা সীমান্তের বাড়িতে মাদক সেবনের যে তথ্য দিয়েছিলেন, সীমান্তও আদালতে সেই একই কথা বলেছেন।
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পুলিশ কমিশনারের কাছে দাবি করেছিলেন যে, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে তারা তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছিলেন।
তবে মামলার তদন্তে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে ডোপ টেস্ট নিয়ে। ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও আসামিদের রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) করা হয়নি। এ বিষয়ে রংপুরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ রইছ উদ্দিন বাদশা বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁরা মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে রংপুর মেডিকেল কলেজে ডোপ টেস্ট করা উচিত ছিল। ছয় দিন ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন; এখন যদি ডোপ টেস্ট করা হয় এবং শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া না যায়, তবে বিচারের সময় আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
আইনজীবীরা বলছেন, পুলিশ নিজেই দাবি করেছে যে আসামিরা হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং শিক্ষকের বাসার ছাদে মাদক সেবনের সময় বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সে ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা পুলিশের বড় দায়িত্ব ছিল। এটি প্রমাণিত না হলে মামলার রায়ে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সোমবার সকালে ডকেট পেয়েছি এবং আবেদনও করা হয়েছে। বুধবারই ডোপ টেস্ট করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার উত্তর বের করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, চার খুনের এই ঘটনায় গত রবিবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জির কাছে থাকলেও পরে তা মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটি তদন্ত করছেন।
\

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এই মামলার প্রধান দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত মামলার প্রধান সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ঘটনার ছয় দিন পার হলেও আসামিদের মাদক সেবন পরীক্ষার জন্য 'ডোপ টেস্ট' না হওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার কড়া গোপনীয়তার মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি দেন সীমান্ত। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম তার খাসকামরায় এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সীমান্তকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসে। দিনভর তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হলেও তিনি আসামি নাকি সাক্ষী–সে বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। তবে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, সীমান্ত মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যাওয়ার আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তাঁর বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্ত আদালতে যে তথ্য দিয়েছেন, তা আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। আসামিরা সীমান্তের বাড়িতে মাদক সেবনের যে তথ্য দিয়েছিলেন, সীমান্তও আদালতে সেই একই কথা বলেছেন।
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পুলিশ কমিশনারের কাছে দাবি করেছিলেন যে, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে তারা তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছিলেন।
তবে মামলার তদন্তে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে ডোপ টেস্ট নিয়ে। ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও আসামিদের রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) করা হয়নি। এ বিষয়ে রংপুরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ রইছ উদ্দিন বাদশা বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁরা মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে রংপুর মেডিকেল কলেজে ডোপ টেস্ট করা উচিত ছিল। ছয় দিন ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন; এখন যদি ডোপ টেস্ট করা হয় এবং শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া না যায়, তবে বিচারের সময় আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
আইনজীবীরা বলছেন, পুলিশ নিজেই দাবি করেছে যে আসামিরা হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং শিক্ষকের বাসার ছাদে মাদক সেবনের সময় বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সে ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা পুলিশের বড় দায়িত্ব ছিল। এটি প্রমাণিত না হলে মামলার রায়ে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সোমবার সকালে ডকেট পেয়েছি এবং আবেদনও করা হয়েছে। বুধবারই ডোপ টেস্ট করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার উত্তর বের করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, চার খুনের এই ঘটনায় গত রবিবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জির কাছে থাকলেও পরে তা মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটি তদন্ত করছেন।
\

আপনার মতামত লিখুন