ঝিনাইদহের পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় দুই দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে জেলার শৈলকুপা, সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক বৃদ্ধ দম্পতি, সড়ক দুর্ঘটনায় এক সেনাসদস্য ও তাঁর স্ত্রী এবং ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রয়েছেন।
ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দম্পতির মৃত্যু
বুধবার সকালে শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) ও তাঁর স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে অমরেন্দ্র নাথ নিজ গোয়ালঘরে গবাদিপশুর জন্য মেশিনে ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী মিনা ভৌমিকও বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং পরিবারের আবেদনে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাসের চাকায় পিষ্ট সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী
ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাইপাস সড়কে যাত্রীবাহী বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে সেনাসদস্য সোহেল কাজী (৩২) ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তুলি নিহত হন এবং আহত সোহেল কাজীকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার পর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহেল কাজী চট্টগ্রামের বিএমএ শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোহেল কাজী মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে নড়াইল থেকে শৈলকুপায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি গড়াই পরিবহনের একটি বাসের নিচে চলে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মৃত্যু
এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মোবারকগঞ্জ স্টেশনের কাছে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার শাজাহান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ায় জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যত্রতত্র ট্রাক ও যানবাহন থামিয়ে রাখাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।
\

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ঝিনাইদহের পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় দুই দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে জেলার শৈলকুপা, সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক বৃদ্ধ দম্পতি, সড়ক দুর্ঘটনায় এক সেনাসদস্য ও তাঁর স্ত্রী এবং ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রয়েছেন।
ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দম্পতির মৃত্যু
বুধবার সকালে শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) ও তাঁর স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে অমরেন্দ্র নাথ নিজ গোয়ালঘরে গবাদিপশুর জন্য মেশিনে ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী মিনা ভৌমিকও বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং পরিবারের আবেদনে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাসের চাকায় পিষ্ট সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী
ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাইপাস সড়কে যাত্রীবাহী বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে সেনাসদস্য সোহেল কাজী (৩২) ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তুলি নিহত হন এবং আহত সোহেল কাজীকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার পর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহেল কাজী চট্টগ্রামের বিএমএ শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোহেল কাজী মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে নড়াইল থেকে শৈলকুপায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি গড়াই পরিবহনের একটি বাসের নিচে চলে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মৃত্যু
এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মোবারকগঞ্জ স্টেশনের কাছে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার শাজাহান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ায় জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যত্রতত্র ট্রাক ও যানবাহন থামিয়ে রাখাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।
\

আপনার মতামত লিখুন