ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টার সময় এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাচারকারীদের কবল থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’–এ ফোন করে সাহায্য চান ওই নারী। তার ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ইমন (১৯)। তিনি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া গ্রামের খাইরুলের ছেলে। এই ঘটনায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মহেশপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ইমনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারীর নাম নিতুন জেরা (৪১)। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উজিয়াল গ্রামের মৃত টগরু মামুদের মেয়ে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা নিতুন জেরাকে ভারতে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। গত ২০ আগস্ট তাকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওই নারীকে বাঘাডাঙ্গা এলাকার ইমনের টিনশেড বসতঘরে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে সুযোগ পেয়ে ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশকে বিস্তারিত জানান। খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং ইমনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন–সাভারের পশ্চিম রাজাশনের জাহিদুল ইসলাম মীর (৪২), মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামিনুর (৩৩), আমিনুর রহমান (৩৭), কবির হাজং (৩১), মহসিন (৪৩), মো. হৃদয় মিয়া (২৫), মো. শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও সম্রাট (২৪)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মহেশপুর থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) অপু কুমার বিশ্বাসকে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবর্তী মহেশপুরে চাকরি ও ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে কি না, পুলিশ তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
/

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টার সময় এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাচারকারীদের কবল থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’–এ ফোন করে সাহায্য চান ওই নারী। তার ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ইমন (১৯)। তিনি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া গ্রামের খাইরুলের ছেলে। এই ঘটনায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মহেশপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ইমনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারীর নাম নিতুন জেরা (৪১)। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উজিয়াল গ্রামের মৃত টগরু মামুদের মেয়ে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা নিতুন জেরাকে ভারতে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। গত ২০ আগস্ট তাকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওই নারীকে বাঘাডাঙ্গা এলাকার ইমনের টিনশেড বসতঘরে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে সুযোগ পেয়ে ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশকে বিস্তারিত জানান। খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং ইমনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন–সাভারের পশ্চিম রাজাশনের জাহিদুল ইসলাম মীর (৪২), মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামিনুর (৩৩), আমিনুর রহমান (৩৭), কবির হাজং (৩১), মহসিন (৪৩), মো. হৃদয় মিয়া (২৫), মো. শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও সম্রাট (২৪)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মহেশপুর থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) অপু কুমার বিশ্বাসকে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবর্তী মহেশপুরে চাকরি ও ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে কি না, পুলিশ তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
/

আপনার মতামত লিখুন