সংবাদ

দেড় লাখ জরিমানা, চেয়ারম্যান রাখলেন খাটুনির মজুরি


প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ)
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

দেড় লাখ জরিমানা, চেয়ারম্যান রাখলেন খাটুনির মজুরি
ছবি : সংবাদ

পারিবারিক জমির বিরোধ মেটাতে বসেছিল দুই দিনের সালিস। বিরোধ মিটল, জমি ছাড়ার বিনিময়ে নির্ধারিত হলো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই টাকার পুরোটা ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছায়নি। ১ লাখ টাকা ভুক্তভোগীকে দিয়ে বাকি ৫০ হাজার টাকা নিজের ‘খাটুনির মজুরি’ হিসেবে রেখে দিয়েছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টন।

উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী নুর ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগমের দাবি, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গত ১৭ আগস্ট সোমবার ও ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুই দিন ধরে সালিসের পর জমির বিরোধ মীমাংসা হয়। সেখানে নুর ইসলামকে জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তাহমিনা বেগম জানান, ১৯ আগস্ট বুধবার ওই টাকা আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে দেওয়া হয়। পরদিন রাতে চেয়ারম্যান তাদের ডেকে নিয়ে তাঁর হাতে ১ লাখ টাকা ধরিয়ে দেন। বাকি ৫০ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে দেন চেয়ারম্যান। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান তখন বলেন, "আমরা খেটেছি, আমরা খাব না?"

তাহমিনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে তাদের বাড়ির সামনে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে এই সালিস হয়েছিল। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালিসের খরচ বাবদ নুরে আলম বাবুর পক্ষ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছিল এবং বকশিশ দেওয়ার কথাও ছিল। নুরে আলমের পক্ষে মুমিন নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের কাছে ওই টাকা পৌঁছে দেন।

এদিকে ইউপি সদস্য মাহাতাব আলী প্রামাণিকের বিরুদ্ধেও বিচারের আগে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাহমিনা বেগম। তবে মাহাতাব আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। টাকা-পয়সার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। ওই নারী একবার চেয়ারম্যানের কথা বলছেন, আবার আমার কথাও বলছেন। এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।"

চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টনের বিরুদ্ধে এর আগেও সালিসের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের মিষ্টিআলার মোড়ের একটি জমি নিয়ে সালিসে এক পক্ষের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং উত্তর আধাইপুর হিন্দু পাড়ায় এক প্রেমঘটিত সালিসে লক্ষাধিক টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, "সালিসে বিরোধ মিটলে এক পক্ষ জমি পায়, আর চেয়ারম্যান পান খাটুনির মজুরি।"

অভিযোগের বিষয়ে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টন বলেন, "এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


দেড় লাখ জরিমানা, চেয়ারম্যান রাখলেন খাটুনির মজুরি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পারিবারিক জমির বিরোধ মেটাতে বসেছিল দুই দিনের সালিস। বিরোধ মিটল, জমি ছাড়ার বিনিময়ে নির্ধারিত হলো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই টাকার পুরোটা ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছায়নি। ১ লাখ টাকা ভুক্তভোগীকে দিয়ে বাকি ৫০ হাজার টাকা নিজের ‘খাটুনির মজুরি’ হিসেবে রেখে দিয়েছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টন।

উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী নুর ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগমের দাবি, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গত ১৭ আগস্ট সোমবার ও ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুই দিন ধরে সালিসের পর জমির বিরোধ মীমাংসা হয়। সেখানে নুর ইসলামকে জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তাহমিনা বেগম জানান, ১৯ আগস্ট বুধবার ওই টাকা আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে দেওয়া হয়। পরদিন রাতে চেয়ারম্যান তাদের ডেকে নিয়ে তাঁর হাতে ১ লাখ টাকা ধরিয়ে দেন। বাকি ৫০ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে দেন চেয়ারম্যান। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান তখন বলেন, "আমরা খেটেছি, আমরা খাব না?"

তাহমিনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে তাদের বাড়ির সামনে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে এই সালিস হয়েছিল। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালিসের খরচ বাবদ নুরে আলম বাবুর পক্ষ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছিল এবং বকশিশ দেওয়ার কথাও ছিল। নুরে আলমের পক্ষে মুমিন নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের কাছে ওই টাকা পৌঁছে দেন।

এদিকে ইউপি সদস্য মাহাতাব আলী প্রামাণিকের বিরুদ্ধেও বিচারের আগে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাহমিনা বেগম। তবে মাহাতাব আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। টাকা-পয়সার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। ওই নারী একবার চেয়ারম্যানের কথা বলছেন, আবার আমার কথাও বলছেন। এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।"

চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টনের বিরুদ্ধে এর আগেও সালিসের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের মিষ্টিআলার মোড়ের একটি জমি নিয়ে সালিসে এক পক্ষের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং উত্তর আধাইপুর হিন্দু পাড়ায় এক প্রেমঘটিত সালিসে লক্ষাধিক টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, "সালিসে বিরোধ মিটলে এক পক্ষ জমি পায়, আর চেয়ারম্যান পান খাটুনির মজুরি।"

অভিযোগের বিষয়ে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টন বলেন, "এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত