সংবাদ

পাবনায় তিন কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ এএম

পাবনায় তিন কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ
ছবি : সংবাদ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিনটি সুতা প্রসেস মিল ও ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি স্থানীয় খালে ফেলায় পানি কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। বিষাক্ত এই বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের মধ্য ও পূর্বপাড়ার তিনটি কারখানার মালিক ইন্তাজ মল্লিক, মন্তাজ মল্লিক ও মকছেদুর রহমান। নিয়মানুযায়ী বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের কথা থাকলেও তারা তা করেননি। সুতা রঙের কাজে ব্যবহৃত এসিড, কস্টিক সোডা ও ব্লিচিং পাউডারের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে সরাসরি খালে ফেলা হচ্ছে। এমনকি পাইপ দিয়ে এই বিষাক্ত পানি ভূগর্ভেও পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আশপাশের টিউবওয়েলের পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তা পান করে মানুষ চর্মরোগ ও পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের কুচকুচে কালো পানি বৃষ্টির সময় উপচে ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফসলের চারা বড় হওয়ার আগেই মরে যাচ্ছে, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মায়েশা আকতার জানান, এই দূষিত পানির কারণে লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের মারাত্মক রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক ইন্তাজ মল্লিক দাবি করেন, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্জ্য ভূগর্ভে ফেলার বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সাঁথিয়া পৌরসভার প্রশাসক জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কারখানা স্থাপনের নিয়ম নেই। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তে লোক পাঠানো হবে। পরিবেশের ক্ষতি প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাবনায় তিন কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিনটি সুতা প্রসেস মিল ও ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি স্থানীয় খালে ফেলায় পানি কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। বিষাক্ত এই বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের মধ্য ও পূর্বপাড়ার তিনটি কারখানার মালিক ইন্তাজ মল্লিক, মন্তাজ মল্লিক ও মকছেদুর রহমান। নিয়মানুযায়ী বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের কথা থাকলেও তারা তা করেননি। সুতা রঙের কাজে ব্যবহৃত এসিড, কস্টিক সোডা ও ব্লিচিং পাউডারের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে সরাসরি খালে ফেলা হচ্ছে। এমনকি পাইপ দিয়ে এই বিষাক্ত পানি ভূগর্ভেও পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আশপাশের টিউবওয়েলের পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তা পান করে মানুষ চর্মরোগ ও পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের কুচকুচে কালো পানি বৃষ্টির সময় উপচে ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফসলের চারা বড় হওয়ার আগেই মরে যাচ্ছে, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মায়েশা আকতার জানান, এই দূষিত পানির কারণে লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের মারাত্মক রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক ইন্তাজ মল্লিক দাবি করেন, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্জ্য ভূগর্ভে ফেলার বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সাঁথিয়া পৌরসভার প্রশাসক জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কারখানা স্থাপনের নিয়ম নেই। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তে লোক পাঠানো হবে। পরিবেশের ক্ষতি প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত