যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। গত ৩০ আগস্ট রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর নিজের এক্স পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, এ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে।
অবশ্য, উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে, সেটি সার্জিও গর তার পোস্টে উল্লেখ করেননি।
তবে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান প্রয়োজন হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কিনতে পারবে। আগস্টের শেষ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) হোয়াইট হাউজ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশাও জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার এই বড় অঙ্কের চুক্তি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য একটি মাইলফলক।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পারিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দর-কষাকষির সময় বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গটি আসে।
তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি বিমানের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গ টানেন।
এপ্রিলে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
ওই চুক্তি অনুযায়ী বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ দূত সার্জিও গরের পোস্টটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি একটি বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য। বোয়িংয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষ বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি শুধু বাংলাদেশের বিমান খাতের আধুনিকায়নই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প যেন বোঝাতে চেয়েছেন, এই বাণিজ্যিক সমঝোতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। গত ৩০ আগস্ট রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর নিজের এক্স পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, এ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে।
অবশ্য, উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে, সেটি সার্জিও গর তার পোস্টে উল্লেখ করেননি।
তবে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান প্রয়োজন হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কিনতে পারবে। আগস্টের শেষ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) হোয়াইট হাউজ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশাও জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার এই বড় অঙ্কের চুক্তি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য একটি মাইলফলক।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পারিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দর-কষাকষির সময় বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গটি আসে।
তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি বিমানের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গ টানেন।
এপ্রিলে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
ওই চুক্তি অনুযায়ী বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ দূত সার্জিও গরের পোস্টটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি একটি বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য। বোয়িংয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষ বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি শুধু বাংলাদেশের বিমান খাতের আধুনিকায়নই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প যেন বোঝাতে চেয়েছেন, এই বাণিজ্যিক সমঝোতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন