সংবাদ

ত্রিশালে ফসলি জমিতে ‘বিষের ধোঁয়া’, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য


প্রতিনিধি, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রতিনিধি, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

ত্রিশালে ফসলি জমিতে ‘বিষের ধোঁয়া’, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সীসা তৈরির কারখানা। ছবি : সংবাদ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সীসা তৈরির কারখানা। পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যে জনস্বাস্থ্য যেমন হুমকিতে পড়েছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি ও ফসল। প্রশাসনের কোনো অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবাধে চলছে এই মরণঘাতী কারবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘোরকান্দা এলাকায় একটি ফসলি জমি ভাড়া নিয়ে কারখানাটি বসিয়েছেন আজাদ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। অন্যদিকে, বৈলর ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেও গড়ে উঠেছে অনুরূপ আরেকটি কারখানা। সেখানে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। দিনের বেলা ব্যাটারি ভেঙে সীসা আলাদা করা হয় এবং রাতে সেসব বিষাক্ত রাসায়নিক পোড়ানো হয়। এসময় নির্গত অ্যাসিডের তীব্র ঝাঁজালো গন্ধে আশপাশের এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ বলেন, 'দিনের বেলা অ্যাসিড আর প্লাস্টিক আলাদা করা হয়, আর রাতে চলে পোড়ানোর কাজ। গন্ধে এলাকায় টেকাই মুশকিল। আমাদের জমির ধান আর ফলগাছ সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।'

হরিরামপুর ইউনিয়নের সদস্য ছাইফুল ইসলাম ফরাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি কয়েকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু তাদের খুঁটির জোর অনেক গভীরে। টাকা আর ক্ষমতার দাপটে তারা কৃষি জমিতে এই বিষাক্ত কারখানা চালাচ্ছে।'

কারখানার অবৈধ কারবারের কথা স্বীকার করেছেন খোদ ব্যবস্থাপক আবুল কালাম। তিনি বলেন, 'আমাদের কোনো অনুমোদন নেই। তবে এলাকার সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই ব্যবসা করতে হয়।' বৈলর ইউনিয়নের কারখানার মালিক বিল্লাহর কাছে অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাম্মিম জাহান জানান, সীসা ও অ্যাসিডের কারণে মাটির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হয়ে যায় এবং উৎপাদিত ফসল মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, 'এই কারখানাগুলোর কোনো ছাড়পত্র নেই। দ্রুতই এসব অবৈধ কারখানা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মাহবুবুর রহমানও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ত্রিশালে ফসলি জমিতে ‘বিষের ধোঁয়া’, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সীসা তৈরির কারখানা। পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যে জনস্বাস্থ্য যেমন হুমকিতে পড়েছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি ও ফসল। প্রশাসনের কোনো অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবাধে চলছে এই মরণঘাতী কারবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘোরকান্দা এলাকায় একটি ফসলি জমি ভাড়া নিয়ে কারখানাটি বসিয়েছেন আজাদ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। অন্যদিকে, বৈলর ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেও গড়ে উঠেছে অনুরূপ আরেকটি কারখানা। সেখানে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। দিনের বেলা ব্যাটারি ভেঙে সীসা আলাদা করা হয় এবং রাতে সেসব বিষাক্ত রাসায়নিক পোড়ানো হয়। এসময় নির্গত অ্যাসিডের তীব্র ঝাঁজালো গন্ধে আশপাশের এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ বলেন, 'দিনের বেলা অ্যাসিড আর প্লাস্টিক আলাদা করা হয়, আর রাতে চলে পোড়ানোর কাজ। গন্ধে এলাকায় টেকাই মুশকিল। আমাদের জমির ধান আর ফলগাছ সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।'

হরিরামপুর ইউনিয়নের সদস্য ছাইফুল ইসলাম ফরাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি কয়েকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু তাদের খুঁটির জোর অনেক গভীরে। টাকা আর ক্ষমতার দাপটে তারা কৃষি জমিতে এই বিষাক্ত কারখানা চালাচ্ছে।'

কারখানার অবৈধ কারবারের কথা স্বীকার করেছেন খোদ ব্যবস্থাপক আবুল কালাম। তিনি বলেন, 'আমাদের কোনো অনুমোদন নেই। তবে এলাকার সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই ব্যবসা করতে হয়।' বৈলর ইউনিয়নের কারখানার মালিক বিল্লাহর কাছে অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাম্মিম জাহান জানান, সীসা ও অ্যাসিডের কারণে মাটির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হয়ে যায় এবং উৎপাদিত ফসল মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, 'এই কারখানাগুলোর কোনো ছাড়পত্র নেই। দ্রুতই এসব অবৈধ কারখানা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মাহবুবুর রহমানও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত