সংবাদ

বারনই নদীতে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে?


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

বারনই নদীতে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে?
ছবি : সংবাদ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদীতে মাছের ব্যাপক মড়ক দেখা দিয়েছে। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া এবং বিষাক্ত অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনভর নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও বারনই নদীতে তা বেড়ে ১ দশমিক ৫ মিলিগ্রামে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণও সহনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরেই নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নদীর উপরিভাগে মরা মাছ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তা ধরার জন্য ভিড় জমান।

নলডাঙ্গা উপজেলার বশিলা গ্রামের জেলে ভবেশ চন্দ্র বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি খুব নোংরা। এই পচা পানির কারণেই মাছগুলো মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, নদীর আশপাশের বিলে ও পাড়ে পাট পচানো বর্জ্য মিশে পানিতে জৈব দূষণ বেড়েছে। এ ছাড়া শিল্পকারখানা ও পোলট্রি খামারের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় পানির গুণমান নষ্ট হয়েছে।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী সংবাদকে বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া ও অক্সিজেন সংকটের প্রমাণ মিলেছে। তবে গত দুদিন রোদ ওঠায় এবং নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।’ তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বারনই নদীতে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদীতে মাছের ব্যাপক মড়ক দেখা দিয়েছে। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া এবং বিষাক্ত অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনভর নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও বারনই নদীতে তা বেড়ে ১ দশমিক ৫ মিলিগ্রামে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণও সহনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরেই নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নদীর উপরিভাগে মরা মাছ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তা ধরার জন্য ভিড় জমান।

নলডাঙ্গা উপজেলার বশিলা গ্রামের জেলে ভবেশ চন্দ্র বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি খুব নোংরা। এই পচা পানির কারণেই মাছগুলো মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, নদীর আশপাশের বিলে ও পাড়ে পাট পচানো বর্জ্য মিশে পানিতে জৈব দূষণ বেড়েছে। এ ছাড়া শিল্পকারখানা ও পোলট্রি খামারের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় পানির গুণমান নষ্ট হয়েছে।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী সংবাদকে বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া ও অক্সিজেন সংকটের প্রমাণ মিলেছে। তবে গত দুদিন রোদ ওঠায় এবং নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।’ তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত