সংবাদ

নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে গাইবান্ধার মানচিত্র


আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে গাইবান্ধার মানচিত্র
ছবি : সংবাদ

নদীভাঙন এখন আর কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, গাইবান্ধার মানুষের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি ও চরম দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায় এই জেলার ভাঙন পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

সিইজিআইএসের তথ্যমতে, ১৯৭৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত আয়তনের প্রায় পাঁচ গুণ। এর মধ্যে যমুনার গ্রাসেই হারিয়ে গেছে মোট ক্ষয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি।

২০২৬ সালে ভাঙনের শীর্ষে গাইবান্ধা
সিইজিআইএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে দেশের ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রায় ৯১৫ হেক্টর জমি বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধাতেই সর্বোচ্চ ২২৩ হেক্টর জমি ভাঙনের মুখে। বসতভিটা, কৃষিজমি ও সড়কের পাশাপাশি দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাঘাটায় ২৩ বছরে হারিয়েছে ২০ বর্গকিলোমিটার
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচারাল হ্যাজার্ডস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে শুধু সাঘাটা উপজেলারই প্রায় ২০ দশমিক ৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতখালী, সাঘাটা, হলদিয়া, কামালেরপাড়া ও মুক্তিনগর ইউনিয়ন। বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে এসব এলাকার হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব।

নদীতীর থেকে শহরের বস্তিতে
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন হলে গড়ে এক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। কাজের অভাব ও স্থায়ী বাসস্থানের নিশ্চয়তা না থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত ঢাকা বা বড় শহরগুলোর বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে নদীতীরের গ্রামীণ দারিদ্র্য নতুন করে শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

স্থায়ী সমাধানের দাবি
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) প্রতিষ্ঠাতা ও উন্নয়ন গবেষক এম. আবদুস্ সালাম বলেন, ‘নদীভাঙন এই অঞ্চলের মানুষের জীবন পুরোপুরি তছনছ করে দিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিওব্যাগ ফেলা বা সাময়িক ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং পরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপর জোর দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নদীভাঙন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়, বরং কার্যকর জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে গাইবান্ধার মানচিত্র

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নদীভাঙন এখন আর কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, গাইবান্ধার মানুষের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি ও চরম দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায় এই জেলার ভাঙন পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

সিইজিআইএসের তথ্যমতে, ১৯৭৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত আয়তনের প্রায় পাঁচ গুণ। এর মধ্যে যমুনার গ্রাসেই হারিয়ে গেছে মোট ক্ষয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি।

২০২৬ সালে ভাঙনের শীর্ষে গাইবান্ধা
সিইজিআইএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে দেশের ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রায় ৯১৫ হেক্টর জমি বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধাতেই সর্বোচ্চ ২২৩ হেক্টর জমি ভাঙনের মুখে। বসতভিটা, কৃষিজমি ও সড়কের পাশাপাশি দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাঘাটায় ২৩ বছরে হারিয়েছে ২০ বর্গকিলোমিটার
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচারাল হ্যাজার্ডস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে শুধু সাঘাটা উপজেলারই প্রায় ২০ দশমিক ৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতখালী, সাঘাটা, হলদিয়া, কামালেরপাড়া ও মুক্তিনগর ইউনিয়ন। বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে এসব এলাকার হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব।

নদীতীর থেকে শহরের বস্তিতে
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন হলে গড়ে এক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। কাজের অভাব ও স্থায়ী বাসস্থানের নিশ্চয়তা না থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত ঢাকা বা বড় শহরগুলোর বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে নদীতীরের গ্রামীণ দারিদ্র্য নতুন করে শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

স্থায়ী সমাধানের দাবি
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) প্রতিষ্ঠাতা ও উন্নয়ন গবেষক এম. আবদুস্ সালাম বলেন, ‘নদীভাঙন এই অঞ্চলের মানুষের জীবন পুরোপুরি তছনছ করে দিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিওব্যাগ ফেলা বা সাময়িক ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং পরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপর জোর দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নদীভাঙন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়, বরং কার্যকর জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত