সংবাদ

২০১৯ সালের সেই আলোচিত অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় রায় ঘোষণা


প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

২০১৯ সালের সেই আলোচিত অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় রায় ঘোষণা
ছবি : সংবাদ

দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা (২৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আদালতের এ রায়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের মো. নান্দু ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী খালাতো বোনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারের অটোস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখানে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের চাপে পড়ে পরদিন রুবেল ওই ছাত্রীকে অটোতে তুলে ফেরত পাঠালে ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় ( অপহরণ) তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড) দেন। একই সঙ্গে ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড) দেওয়া হয়। দুটি সাজাই একসঙ্গে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামির ওপর ধার্য করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ অর্থ আদায়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২০১৯ সালের সেই আলোচিত অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় রায় ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা (২৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আদালতের এ রায়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের মো. নান্দু ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী খালাতো বোনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারের অটোস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখানে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের চাপে পড়ে পরদিন রুবেল ওই ছাত্রীকে অটোতে তুলে ফেরত পাঠালে ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় ( অপহরণ) তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড) দেন। একই সঙ্গে ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড) দেওয়া হয়। দুটি সাজাই একসঙ্গে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামির ওপর ধার্য করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ অর্থ আদায়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত