ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
রবিবার সংস্কার শেষে সংগ্রহশালাটি নতুনভাবে চালু হওয়ার পর সেখানে জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পায়, যার একটি ১৯৪৮ সালের রেসকোর্স ময়দানের উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার ভাষণ, একটি ১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের সম্মেলনের গ্রুপ ছবি এবং ১৯৭০ সালের ডন পত্রিকার প্রতিবেদন।
এই সংযোজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলার পর সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেন ঢাবির উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
ছবি ছিঁড়ে ফেলার সময় আবু তৈয়ব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ দেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে, তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখা হয়?’
ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ; প্রতিটি লড়াইয়ে ঢাবির রক্তের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখানে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেম, শেখ মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি থাকতে হবে। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন উপাদান রাখায় বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় সোমবার সকালেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি ‘প্রচ্ছন্ন অনুরাগ’ প্রদর্শন করছে। সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি সংযোজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল।
রবিবার সংগ্রহশালা উদ্বোধনের পর থেকেই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির এমন বিতর্কিত উপস্থাপন নিয়ে ক্যাম্পাস ও অনলাইনে শুরু হয় নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত এলেও সোমবারের আকস্মিক ছবি ছেঁড়ার ঘটনায় পুরো বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
রবিবার সংস্কার শেষে সংগ্রহশালাটি নতুনভাবে চালু হওয়ার পর সেখানে জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পায়, যার একটি ১৯৪৮ সালের রেসকোর্স ময়দানের উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার ভাষণ, একটি ১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের সম্মেলনের গ্রুপ ছবি এবং ১৯৭০ সালের ডন পত্রিকার প্রতিবেদন।
এই সংযোজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলার পর সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেন ঢাবির উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
ছবি ছিঁড়ে ফেলার সময় আবু তৈয়ব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ দেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে, তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখা হয়?’
ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ; প্রতিটি লড়াইয়ে ঢাবির রক্তের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখানে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেম, শেখ মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি থাকতে হবে। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন উপাদান রাখায় বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় সোমবার সকালেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি ‘প্রচ্ছন্ন অনুরাগ’ প্রদর্শন করছে। সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি সংযোজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল।
রবিবার সংগ্রহশালা উদ্বোধনের পর থেকেই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির এমন বিতর্কিত উপস্থাপন নিয়ে ক্যাম্পাস ও অনলাইনে শুরু হয় নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত এলেও সোমবারের আকস্মিক ছবি ছেঁড়ার ঘটনায় পুরো বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়।

আপনার মতামত লিখুন