সংবাদ

আসছে তিন মেট্রোরেল, যারা উপকৃত হবেন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

আসছে তিন মেট্রোরেল, যারা উপকৃত হবেন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এতে বিমানবন্দর, কমলাপুর, গাবতলী, হেমায়েতপুর, ভাটারা ও দাশেরকান্দিসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিমানবন্দর-কমলাপুর এমআরটি লাইন-১, হেমায়েতপুর-ভাটারা এমআরটি লাইন-৫ নর্দান এবং গাবতলী-দাশেরকান্দি এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিন প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে এমআরটি লাইন-১-এ।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের পুনর্গঠিত ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। নতুন ব্যয় মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

নতুন প্রস্তাবে সরকারি অর্থায়ন ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব, নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প হওয়ায় প্রক্রিয়াগত জটিলতাকে ব্যয় ও সময় বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই রুট চালু হলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত যাতায়াত সহজ হবে। বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বনানী, তেজগাঁও, ফার্মগেট, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দোয়েল চত্বর, কমলাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা

দ্বিতীয় বৃহৎ প্রকল্প এমআরটি লাইন-৫ নর্দান। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ফলে নতুন ব্যয় মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

প্রকল্পের হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত অংশ হবে উড়ালপথে এবং আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত অংশ পাতালপথে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য থাকলেও নতুন প্রস্তাবে বাস্তবায়নকাল ২০৩২ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রুট চালু হলে হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর, উত্তরা ও ভাটারার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি

নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সাউদার্ন রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথ। গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এ রুট। এতে ১৫টি স্টেশন থাকবে। প্রকল্পটি চালু হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি যেতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট। এই রুট চালু হলে গাবতলী, শ্যামলী, আসাদগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

এদিকে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দানের ব্যয় অনুমোদনের আগে পুনর্গঠন করা হয়েছে। আগস্টে দুই প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব ছিল। পরে বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা করা হয়।

মূল রেলপথ নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন ও ভবন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে। তিন মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত সময় ও খরচ দুই-ই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আসছে তিন মেট্রোরেল, যারা উপকৃত হবেন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এতে বিমানবন্দর, কমলাপুর, গাবতলী, হেমায়েতপুর, ভাটারা ও দাশেরকান্দিসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিমানবন্দর-কমলাপুর এমআরটি লাইন-১, হেমায়েতপুর-ভাটারা এমআরটি লাইন-৫ নর্দান এবং গাবতলী-দাশেরকান্দি এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিন প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে এমআরটি লাইন-১-এ।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের পুনর্গঠিত ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। নতুন ব্যয় মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

নতুন প্রস্তাবে সরকারি অর্থায়ন ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব, নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প হওয়ায় প্রক্রিয়াগত জটিলতাকে ব্যয় ও সময় বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই রুট চালু হলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত যাতায়াত সহজ হবে। বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বনানী, তেজগাঁও, ফার্মগেট, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দোয়েল চত্বর, কমলাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা

দ্বিতীয় বৃহৎ প্রকল্প এমআরটি লাইন-৫ নর্দান। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ফলে নতুন ব্যয় মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

প্রকল্পের হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত অংশ হবে উড়ালপথে এবং আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত অংশ পাতালপথে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য থাকলেও নতুন প্রস্তাবে বাস্তবায়নকাল ২০৩২ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রুট চালু হলে হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর, উত্তরা ও ভাটারার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি

নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সাউদার্ন রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথ। গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এ রুট। এতে ১৫টি স্টেশন থাকবে। প্রকল্পটি চালু হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি যেতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট। এই রুট চালু হলে গাবতলী, শ্যামলী, আসাদগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

এদিকে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দানের ব্যয় অনুমোদনের আগে পুনর্গঠন করা হয়েছে। আগস্টে দুই প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব ছিল। পরে বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা করা হয়।

মূল রেলপথ নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন ও ভবন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে। তিন মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত সময় ও খরচ দুই-ই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত