সংবাদ

শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ দমন সম্ভব নয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ দমন সম্ভব নয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

দেশে সংঘটিত অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে।

অপরাধ হচ্ছে একটা উপসর্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অপরাধ দমনে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নিলে হবে না; মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে দেখতে হবে কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনেক গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।"

বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের প্রসংশা করে মন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তার জন্য সরকারি বা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের নতুন প্রযুক্তি ও অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "ক্রাইম রিপোর্টারদের ক্ষেত্রটা আলাদা। এটা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের একটা পার্ট। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।"

আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপন করা হবে। থানা ও উপজেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও তিনি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের কথা জানিয়েছিলেন।

সময়ের চাহিদা ও অপরাধের নতুন ধরন অনুযায়ী আইন সংশোধনের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না।

অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

আইন দুর্বল হলে আসামিরা দ্রুত জামিন পায় উল্লেখ করে তিনি আইনি সংস্কারের কথা জানান। অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি ক্রাইম রিপোর্টারদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারিভাবে সনদ দেওয়ার বিষয়টিও যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ দমন সম্ভব নয়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে সংঘটিত অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে।

অপরাধ হচ্ছে একটা উপসর্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অপরাধ দমনে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নিলে হবে না; মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে দেখতে হবে কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনেক গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।"

বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের প্রসংশা করে মন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তার জন্য সরকারি বা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের নতুন প্রযুক্তি ও অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "ক্রাইম রিপোর্টারদের ক্ষেত্রটা আলাদা। এটা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের একটা পার্ট। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।"

আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপন করা হবে। থানা ও উপজেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও তিনি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের কথা জানিয়েছিলেন।

সময়ের চাহিদা ও অপরাধের নতুন ধরন অনুযায়ী আইন সংশোধনের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না।

অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

আইন দুর্বল হলে আসামিরা দ্রুত জামিন পায় উল্লেখ করে তিনি আইনি সংস্কারের কথা জানান। অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি ক্রাইম রিপোর্টারদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারিভাবে সনদ দেওয়ার বিষয়টিও যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত