সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার না করেও প্রতি মাসে তোলা হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ভাউচার। অন্যদিকে অযত্ন-অবহেলায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের বারান্দায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে চারটি সরকারি ইয়ামাহা বাইক।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের জোন সার্কেল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বারান্দায় ধুলো-ময়লার আস্তরণে ঢেকে পড়ে রয়েছে চারটি সরকারি মোটরসাইকেল। দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য চারজন উপসহকারী প্রকৌশলীর নামে বাইকগুলো বরাদ্দ থাকলেও তা চালানো হচ্ছে না। অথচ গাড়িগুলো সচল না রেখেও প্রতি মাসে মেইনটেনেন্স খরচের নামে ভুয়া ভাউচার বানিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজ ও পরিদর্শনের সুবিধার্থে উপসহকারী প্রকৌশলীদের অনুকূলে বাইকগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নিজেদের ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করে আসছেন। ফলে বাইকগুলো ফেলে রাখায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, বাইকগুলো প্রায় ২০ বছর ধরে একই স্থানে পড়ে আছে। অথচ কাগজে-কলমে প্রতি মাসে তেল, মবিল ও সার্ভিসিং খরচের হিসাব দেখানো হয়। বছরে সরকারের প্রায় দুই লাখ টাকা ভুয়া ভাউচারে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হুসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে বরিশাল সাধারণ নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকারি সম্পদ অযত্নে ফেলে রেখে নষ্ট করা এবং ব্যবহার না করেও মেইনটেনেন্সের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক হিসেবে আমরা এই ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’
সরকারি সম্পদের এমন অবহেলা ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার না করেও প্রতি মাসে তোলা হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ভাউচার। অন্যদিকে অযত্ন-অবহেলায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের বারান্দায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে চারটি সরকারি ইয়ামাহা বাইক।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের জোন সার্কেল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বারান্দায় ধুলো-ময়লার আস্তরণে ঢেকে পড়ে রয়েছে চারটি সরকারি মোটরসাইকেল। দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য চারজন উপসহকারী প্রকৌশলীর নামে বাইকগুলো বরাদ্দ থাকলেও তা চালানো হচ্ছে না। অথচ গাড়িগুলো সচল না রেখেও প্রতি মাসে মেইনটেনেন্স খরচের নামে ভুয়া ভাউচার বানিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজ ও পরিদর্শনের সুবিধার্থে উপসহকারী প্রকৌশলীদের অনুকূলে বাইকগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নিজেদের ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করে আসছেন। ফলে বাইকগুলো ফেলে রাখায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, বাইকগুলো প্রায় ২০ বছর ধরে একই স্থানে পড়ে আছে। অথচ কাগজে-কলমে প্রতি মাসে তেল, মবিল ও সার্ভিসিং খরচের হিসাব দেখানো হয়। বছরে সরকারের প্রায় দুই লাখ টাকা ভুয়া ভাউচারে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হুসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে বরিশাল সাধারণ নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকারি সম্পদ অযত্নে ফেলে রেখে নষ্ট করা এবং ব্যবহার না করেও মেইনটেনেন্সের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক হিসেবে আমরা এই ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’
সরকারি সম্পদের এমন অবহেলা ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

আপনার মতামত লিখুন