সংবাদ

সর্বজনীন পেনশনে বাড়ল মুনাফা-নমিনির বয়সসীমা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

সর্বজনীন পেনশনে বাড়ল মুনাফা-নমিনির বয়সসীমা
প্রতীকী ছবি।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এই স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে কিঞ্চিৎ বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এ মুনাফা অনুমোদন করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা হয়। বোর্ডের সদস্য সচিব জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান সভা পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ করা অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মুনাফা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে ওই অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের হিসাবে নির্ধারিত হারে মুনাফা যুক্ত হবে।

চালুর তিন বছরে সর্বজনীন পেনশনের চারটি কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক। এর বিপরীতে মোট আমানত রয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। অর্থাৎ পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। আর নমিনি বা স্পাউস ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাবও সভায় গুরুত্ব পায়। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের স্কিম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আরও সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশার কথা বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

সভায় চাঁদাদাতাদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে প্রদেয় কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও সভায় আলোচিত হয়। ওই কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। তবে কী ধরনের মডেলে এটি চালু করা যায়, এতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি বা ঝুঁকি কতটা থাকতে পারে এবং কীভাবে তা সমন্বয় করা হবে, এসব বিষয়ে আরও বিশ্লেষণ করা হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুফল প্রদান এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে স্কিমটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সর্বজনীন পেনশনে বাড়ল মুনাফা-নমিনির বয়সসীমা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এই স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে কিঞ্চিৎ বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এ মুনাফা অনুমোদন করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা হয়। বোর্ডের সদস্য সচিব জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান সভা পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ করা অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মুনাফা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে ওই অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের হিসাবে নির্ধারিত হারে মুনাফা যুক্ত হবে।

চালুর তিন বছরে সর্বজনীন পেনশনের চারটি কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক। এর বিপরীতে মোট আমানত রয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। অর্থাৎ পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। আর নমিনি বা স্পাউস ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাবও সভায় গুরুত্ব পায়। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের স্কিম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আরও সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশার কথা বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

সভায় চাঁদাদাতাদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে প্রদেয় কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও সভায় আলোচিত হয়। ওই কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। তবে কী ধরনের মডেলে এটি চালু করা যায়, এতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি বা ঝুঁকি কতটা থাকতে পারে এবং কীভাবে তা সমন্বয় করা হবে, এসব বিষয়ে আরও বিশ্লেষণ করা হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুফল প্রদান এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে স্কিমটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক সভায় উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত