সংবাদ

পণ্যে ফের অসঙ্গতি, প্রশ্নের মুখে মৈত্রী অটোমোবাইল


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

পণ্যে ফের অসঙ্গতি, প্রশ্নের মুখে মৈত্রী অটোমোবাইল
চট্টগ্রাম বন্দরে যন্ত্রাংশের নামে আনা হল গাড়ি ও ইঞ্জিন

চট্টগ্রামের মৈত্রী অটোমোবাইলসের জাপান থেকে ‘পুরোনো মোটর পার্টস ও ইঞ্জিন’ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালানে মিলেছে ১৯টি পুরোনো ইঞ্জিন, বিভিন্ন মোটর পার্টস ও দুটি গাড়ির খণ্ডিত অংশ। এ চালানে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে, একই প্রতিষ্ঠানের নামে আনা আরেকটি চালান থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শুল্ক গোয়েন্দা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের আইসিডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি লক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টম হাউস, আইসিডি। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর চালানটি ‘ফোর্স কিপ ডাউন’ করে পরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। দু’দিন ধরে পরীক্ষণের পর চালানটিতে ১৯টি পুরোনো ইঞ্জিন, বিভিন্ন ধরনের পুরোনো মোটর পার্টস এবং দুটি গাড়ির খন্ডিত অংশ পাওয়া যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার আরাকান সড়কে অবস্থিত মৈত্রী অটোমোবাইলের নামে জাপান থেকে ‘পুরোনো মোটর পার্টস ও ইঞ্জিন’ ঘোষণায় চালানটি ঢাকার কাস্টম হাউস, আইসিডিতে আসে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৭৬৬।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, চালানটিতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের অসঙ্গতি থাকায় রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কত টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে জাপান থেকে আসা নতুন চালানটির পরীক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মৈত্রী অটোমোবাইলের নামে এর আগেও মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশি সিগারেট আনার অভিযোগ উঠেছিল। গত ১৫ এপ্রিল পানগাঁও কাস্টমস হাউসের বিশেষ দলের তল্লাশিতে প্রতিষ্ঠানটির নামে আমদানি করা একটি চালান থেকে প্রায় ৩১ লাখ শলাকা আমদানি-নিয়ন্ত্রিত বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ‘পুরোনো মোটর পার্টস’ আমদানির ঘোষণা দিয়ে ওই চালান আনা হয়েছিল। তল্লাশির সময় মোটর পার্টসের স্তুুপের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১৫ হাজার ৪৪৩টি ছোট কার্টনে এসব সিগারেট পাওয়া যায়। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ওই চালানের আমদানিকারকও ছিল চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার আরাকান সড়কের মৈত্রী অটোমোবাইল। খালাস কার্যক্রমে যুক্ত ছিল ঢাকার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিতুল ট্রেড লিমিটেড।

কাস্টমস সূত্র জানায়, তল্লাশির সময় বস্তা ও কার্টনের মধ্যে পুরোনো মোটর পার্টস এমনভাবে সাজানো ছিল, যাতে সেগুলোর নিচে থাকা সিগারেট সহজে শনাক্ত করা না যায়। পরে তল্লাশিতে সিগারেটের চালানটি ধরা পড়ে।

ওই সময় পানগাঁও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মৈত্রী অটোমোবাইল এর আগে এ ধরনের কতটি চালান খালাস করেছে এবং এসব চালানের মাধ্যমে কোনো রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির অভিযোগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন-২০২৩ ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পণ্যে ফের অসঙ্গতি, প্রশ্নের মুখে মৈত্রী অটোমোবাইল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের মৈত্রী অটোমোবাইলসের জাপান থেকে ‘পুরোনো মোটর পার্টস ও ইঞ্জিন’ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালানে মিলেছে ১৯টি পুরোনো ইঞ্জিন, বিভিন্ন মোটর পার্টস ও দুটি গাড়ির খণ্ডিত অংশ। এ চালানে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে, একই প্রতিষ্ঠানের নামে আনা আরেকটি চালান থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শুল্ক গোয়েন্দা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের আইসিডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি লক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টম হাউস, আইসিডি। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর চালানটি ‘ফোর্স কিপ ডাউন’ করে পরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। দু’দিন ধরে পরীক্ষণের পর চালানটিতে ১৯টি পুরোনো ইঞ্জিন, বিভিন্ন ধরনের পুরোনো মোটর পার্টস এবং দুটি গাড়ির খন্ডিত অংশ পাওয়া যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার আরাকান সড়কে অবস্থিত মৈত্রী অটোমোবাইলের নামে জাপান থেকে ‘পুরোনো মোটর পার্টস ও ইঞ্জিন’ ঘোষণায় চালানটি ঢাকার কাস্টম হাউস, আইসিডিতে আসে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৭৬৬।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, চালানটিতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের অসঙ্গতি থাকায় রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কত টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে জাপান থেকে আসা নতুন চালানটির পরীক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মৈত্রী অটোমোবাইলের নামে এর আগেও মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশি সিগারেট আনার অভিযোগ উঠেছিল। গত ১৫ এপ্রিল পানগাঁও কাস্টমস হাউসের বিশেষ দলের তল্লাশিতে প্রতিষ্ঠানটির নামে আমদানি করা একটি চালান থেকে প্রায় ৩১ লাখ শলাকা আমদানি-নিয়ন্ত্রিত বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ‘পুরোনো মোটর পার্টস’ আমদানির ঘোষণা দিয়ে ওই চালান আনা হয়েছিল। তল্লাশির সময় মোটর পার্টসের স্তুুপের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১৫ হাজার ৪৪৩টি ছোট কার্টনে এসব সিগারেট পাওয়া যায়। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ওই চালানের আমদানিকারকও ছিল চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার আরাকান সড়কের মৈত্রী অটোমোবাইল। খালাস কার্যক্রমে যুক্ত ছিল ঢাকার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিতুল ট্রেড লিমিটেড।

কাস্টমস সূত্র জানায়, তল্লাশির সময় বস্তা ও কার্টনের মধ্যে পুরোনো মোটর পার্টস এমনভাবে সাজানো ছিল, যাতে সেগুলোর নিচে থাকা সিগারেট সহজে শনাক্ত করা না যায়। পরে তল্লাশিতে সিগারেটের চালানটি ধরা পড়ে।

ওই সময় পানগাঁও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মৈত্রী অটোমোবাইল এর আগে এ ধরনের কতটি চালান খালাস করেছে এবং এসব চালানের মাধ্যমে কোনো রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির অভিযোগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন-২০২৩ ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত