সংবাদ

সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, তদন্তে দুদক


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, তদন্তে দুদক
ছবি : সংবাদ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের একটি দল মাইজখাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন। এ সময় জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাসেদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি; সেখানে রডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম রয়েছে।’

তিনি জানান, সরেজমিনে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ দল প্রতিবেদন দেবে। এর ভিত্তিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশনকে বিস্তারিত জানানো হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আমরা সরেজমিনে দেখতে পাইনি। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে সাটারিংয়ে বাঁশের ব্যবহার দেখেছি।’

এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানায় মামলা দায়েরের পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ আলম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।

মামলাটি দায়ের করেন বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে এবং দ্বিতীয় আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।

ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ ও চিঠিতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে অতিরিক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখা হলেও পরে রাতে আবার ঢালাই শেষ করা হয়। স্থানীয়দের তোলা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, তদন্তে দুদক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের একটি দল মাইজখাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন। এ সময় জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাসেদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি; সেখানে রডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম রয়েছে।’

তিনি জানান, সরেজমিনে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ দল প্রতিবেদন দেবে। এর ভিত্তিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশনকে বিস্তারিত জানানো হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আমরা সরেজমিনে দেখতে পাইনি। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে সাটারিংয়ে বাঁশের ব্যবহার দেখেছি।’

এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানায় মামলা দায়েরের পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ আলম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।

মামলাটি দায়ের করেন বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে এবং দ্বিতীয় আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।

ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ ও চিঠিতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে অতিরিক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখা হলেও পরে রাতে আবার ঢালাই শেষ করা হয়। স্থানীয়দের তোলা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত