বাসের মালিক-শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে বাস এবং সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অচলাবস্থা কাটাতে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে তিন পক্ষের বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। বৈঠকে উভয় পক্ষ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল, তবে বাসশ্রমিকদের একটি অংশ তা মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে বাস মালিক, শ্রমিকনেতা ও সিএনজি চালক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে চলাচলের বিষয়ে একমত হলেও শ্রমিকদের একাংশ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় বাস চলাচল এখনো শুরু করা যায়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো বাস ছাড়ছে না, মিলছে না সিএনজিও। এতে বাধ্য হয়ে দূরের গন্তব্যের যাত্রীদের চড়তে হচ্ছে ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশায়। তবে পার-নওগাঁ এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পত্নীতলার নজিপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘গতকাল বাস-সিএনজি বন্ধ থাকায় দ্বিগুণ ভাড়ায় ইজিবাইকে অফিসে যেতে হয়েছিল। আজও একই দশা। পরিবহন শ্রমিকদের এই ঝগড়ার খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকে দিতে হয়।’
রাজশাহীগামী যাত্রী আব্দুস সালাম তার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে যাওয়ার জন্য সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে বিপাকে পড়েন। পরে বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাওয়ার চিন্তা করেন তিনি। অন্যদিকে, হঠাৎ কোনো ঘোষণা ছাড়া পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন পত্নীতলাগামী যাত্রী শারমিন সুলতানা।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানো নিয়ে সিএনজি চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’-এর এক বাসচালক ও তার সহকারীর কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই দিন দুপুরে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে পিটিয়ে আহত করেন সিএনজি চালকেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবেলকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে পরদিন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ-জয়পুরহাট ও নওগাঁ-বগুড়াসহ অভ্যন্তরীণ রুটে বাস বন্ধ করে দেয় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। সিএনজি চলাচলেও তারা বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল দাবি করেন, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তাদের প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, চালক ও সহকারীকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সুর মিলিয়ে নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে; জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস চালু হবে না।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া হলেও শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে তা বাস্তবে রূপ না পাওয়ায় নওগাঁয় যাত্রী ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাসের মালিক-শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে বাস এবং সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অচলাবস্থা কাটাতে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে তিন পক্ষের বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। বৈঠকে উভয় পক্ষ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল, তবে বাসশ্রমিকদের একটি অংশ তা মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে বাস মালিক, শ্রমিকনেতা ও সিএনজি চালক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে চলাচলের বিষয়ে একমত হলেও শ্রমিকদের একাংশ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় বাস চলাচল এখনো শুরু করা যায়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো বাস ছাড়ছে না, মিলছে না সিএনজিও। এতে বাধ্য হয়ে দূরের গন্তব্যের যাত্রীদের চড়তে হচ্ছে ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশায়। তবে পার-নওগাঁ এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পত্নীতলার নজিপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘গতকাল বাস-সিএনজি বন্ধ থাকায় দ্বিগুণ ভাড়ায় ইজিবাইকে অফিসে যেতে হয়েছিল। আজও একই দশা। পরিবহন শ্রমিকদের এই ঝগড়ার খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকে দিতে হয়।’
রাজশাহীগামী যাত্রী আব্দুস সালাম তার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে যাওয়ার জন্য সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে বিপাকে পড়েন। পরে বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাওয়ার চিন্তা করেন তিনি। অন্যদিকে, হঠাৎ কোনো ঘোষণা ছাড়া পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন পত্নীতলাগামী যাত্রী শারমিন সুলতানা।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানো নিয়ে সিএনজি চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’-এর এক বাসচালক ও তার সহকারীর কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই দিন দুপুরে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে পিটিয়ে আহত করেন সিএনজি চালকেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবেলকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে পরদিন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ-জয়পুরহাট ও নওগাঁ-বগুড়াসহ অভ্যন্তরীণ রুটে বাস বন্ধ করে দেয় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। সিএনজি চলাচলেও তারা বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল দাবি করেন, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তাদের প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, চালক ও সহকারীকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সুর মিলিয়ে নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে; জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস চালু হবে না।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া হলেও শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে তা বাস্তবে রূপ না পাওয়ায় নওগাঁয় যাত্রী ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন