শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবার এক অনন্য সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভূমিকা বর্তমানে দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি ও ৩ দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সভা এবং কর্মশালার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছে চীনের উচ্চপর্যায়ের দুটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল।
চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকার এবং কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলটি বিএমইউর ক্যাম্পাস ঘুরে দেখে যারপরনাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে দুই দেশের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত গবেষণা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে অংশ নিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের যে বিশাল অর্জন ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা বাংলাদেশের সাথে বিনিময়ের অপার সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যতে এই সহযোগিতার পরিধি আরও বহুদূর প্রসারিত হবে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষই সরাসরি উপকৃত হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অন্যদিকে, কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং তাঁর বক্তব্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে জানান, এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় থেকে শুরু করে যৌথ গবেষণা এবং বিভিন্ন আধুনিক একাডেমিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।
বিএমইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, চীনের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দেশের সাম্প্রতিক চিকিৎসা খাতের যুগান্তকারী অগ্রগতি নিয়ে একটি আকর্ষণীয় উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আস্থার সাথে চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠানে আসেন। বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, রোবটিক সার্জারি এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা সম্প্রসারণ, আধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতি এবং উন্নত ইমিউনোসাপ্রেশন ব্যবস্থার সুবাদে অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে। এছাড়া ইউরোলজি বিভাগে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও এন্ডোইউরোলজির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হয়েছে।
বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সাইফুল ইসলামের সুদক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় চীনের পক্ষে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যার মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন ও কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি প্রফেসর লি জিয়ংমিং বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন।
বিএমইউর পক্ষ থেকেও উপ-উপাচার্য ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ প্রথিতযশা চিকিৎসকরা এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে চীনের প্রতিনিধি দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক বহির্বিভাগ সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং এর সার্বিক কার্যক্রম দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবার এক অনন্য সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভূমিকা বর্তমানে দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি ও ৩ দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সভা এবং কর্মশালার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছে চীনের উচ্চপর্যায়ের দুটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল।
চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকার এবং কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলটি বিএমইউর ক্যাম্পাস ঘুরে দেখে যারপরনাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে দুই দেশের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত গবেষণা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে অংশ নিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের যে বিশাল অর্জন ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা বাংলাদেশের সাথে বিনিময়ের অপার সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যতে এই সহযোগিতার পরিধি আরও বহুদূর প্রসারিত হবে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষই সরাসরি উপকৃত হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অন্যদিকে, কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং তাঁর বক্তব্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে জানান, এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় থেকে শুরু করে যৌথ গবেষণা এবং বিভিন্ন আধুনিক একাডেমিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।
বিএমইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, চীনের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দেশের সাম্প্রতিক চিকিৎসা খাতের যুগান্তকারী অগ্রগতি নিয়ে একটি আকর্ষণীয় উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আস্থার সাথে চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠানে আসেন। বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, রোবটিক সার্জারি এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা সম্প্রসারণ, আধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতি এবং উন্নত ইমিউনোসাপ্রেশন ব্যবস্থার সুবাদে অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে। এছাড়া ইউরোলজি বিভাগে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও এন্ডোইউরোলজির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হয়েছে।
বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সাইফুল ইসলামের সুদক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় চীনের পক্ষে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যার মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন ও কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি প্রফেসর লি জিয়ংমিং বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন।
বিএমইউর পক্ষ থেকেও উপ-উপাচার্য ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ প্রথিতযশা চিকিৎসকরা এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে চীনের প্রতিনিধি দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক বহির্বিভাগ সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং এর সার্বিক কার্যক্রম দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন