পূর্ব সুন্দরবনে জেলে বহরে পরপর হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ আরও ১৫ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়িয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুই দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২১ জেলেকে তুলে নিয়ে গেল দস্যুরা। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনের শুঁটকি ও মৎস্যজীবী জেলে এবং মহাজনদের মধ্যে চরম দস্যুআতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জানান, শনিবার গভীর রাতে সাগর ও খালের মোহনায় চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় দস্যুরা জেলে বহরে হামলা চালায়। দস্যুরা প্রতি নৌকা থেকে একজন করে মোট ১৫ জেলেকে জিম্মি করে একটি ট্রলারে তুলে গহীন বনে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে খুলনা, বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলীর ১০ জেলের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—আরিফ, সগীর, মিঠু, ফেরদাউস, ইব্রাহিম, ইমরান, মোস্তাফিজুর, আলামিন, হানিফ ও মারুফ।
এদিকে মোংলার এক জেলে মহাজন জানান, একই রাতে সুন্দরবনের ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে 'করিম-শরীফ বাহিনী' পরিচয়ে দুই জেলেকে (মাসুদ ইজারদার ও ইমদাদুল ইজারদার) অপহরণ করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতেও শরণখোলা রেঞ্জের আমবাড়িয়া ও কালামিয়ার ভাড়ানী থেকে 'মজনু বাহিনী' অস্ত্রের মুখে ৫ জেলেকে একটি নৌকাসহ তুলে নিয়ে যায়।
শরণখোলার স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণার কয়েক বছর পর আবারও দুর্ধর্ষ দস্যু বাহিনীর তৎপরতা দেখা দেওয়ায় গভীর সমুদ্রে ও বনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অবিলম্বে অপহৃতদের উদ্ধার ও বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ড ও যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) তথ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, জেলে অপহরণের তথ্য পাওয়ার পরই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং দস্যুদের দমনে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পূর্ব সুন্দরবনে জেলে বহরে পরপর হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ আরও ১৫ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়িয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুই দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২১ জেলেকে তুলে নিয়ে গেল দস্যুরা। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনের শুঁটকি ও মৎস্যজীবী জেলে এবং মহাজনদের মধ্যে চরম দস্যুআতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জানান, শনিবার গভীর রাতে সাগর ও খালের মোহনায় চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় দস্যুরা জেলে বহরে হামলা চালায়। দস্যুরা প্রতি নৌকা থেকে একজন করে মোট ১৫ জেলেকে জিম্মি করে একটি ট্রলারে তুলে গহীন বনে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে খুলনা, বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলীর ১০ জেলের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—আরিফ, সগীর, মিঠু, ফেরদাউস, ইব্রাহিম, ইমরান, মোস্তাফিজুর, আলামিন, হানিফ ও মারুফ।
এদিকে মোংলার এক জেলে মহাজন জানান, একই রাতে সুন্দরবনের ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে 'করিম-শরীফ বাহিনী' পরিচয়ে দুই জেলেকে (মাসুদ ইজারদার ও ইমদাদুল ইজারদার) অপহরণ করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতেও শরণখোলা রেঞ্জের আমবাড়িয়া ও কালামিয়ার ভাড়ানী থেকে 'মজনু বাহিনী' অস্ত্রের মুখে ৫ জেলেকে একটি নৌকাসহ তুলে নিয়ে যায়।
শরণখোলার স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণার কয়েক বছর পর আবারও দুর্ধর্ষ দস্যু বাহিনীর তৎপরতা দেখা দেওয়ায় গভীর সমুদ্রে ও বনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অবিলম্বে অপহৃতদের উদ্ধার ও বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ড ও যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) তথ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, জেলে অপহরণের তথ্য পাওয়ার পরই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং দস্যুদের দমনে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন