কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সংরক্ষিত বনের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশের ওপর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও পাহাড় কেটে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে। কাটা পড়েছে গাছও।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের আগে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বন বিভাগ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও কয়েক দিন কাজ চলেছে। সংরক্ষিত বন রক্ষায় আইন ও বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি একটি সংস্থা সেই বিধিনিষেধ অমান্য করে কাজ করবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারাও ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। এখন সেই ভুল দ্রুত সংশোধন করা জরুরি।
হারবাং বন বন্য প্রাণীর অন্যতম আবাসস্থল। সেখানে বন্য হাতিরও চলাচল রয়েছে। বনের ভেতর পাকা সড়ক হলে মানুষের প্রবেশ বাড়বে। বাড়বে যানবাহনও। এতে গাছ কাটা, শিকার ও বনভূমি দখলের সুযোগ তৈরি হতে পারে। হাতির চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে লোকালয়ে হাতি ঢোকার ঝুঁকিও বাড়বে। ফলে মানুষের নিরাপত্তাও হুমকিতে পড়তে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আরও কয়েকটি সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বন বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি মেলেনি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও কাজ চলার অভিযোগ উঠেছে।
সড়ক নির্মাণের আগে পরিবেশগত ও আইনগত বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। সংরক্ষিত বন রক্ষা করার জন্য সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া দরকার। উন্নয়নের জন্য সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন। তবে সেই উন্নয়ন যদি বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে হয়, তাহলে তা টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সংরক্ষিত বনের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশের ওপর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও পাহাড় কেটে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে। কাটা পড়েছে গাছও।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের আগে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বন বিভাগ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও কয়েক দিন কাজ চলেছে। সংরক্ষিত বন রক্ষায় আইন ও বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি একটি সংস্থা সেই বিধিনিষেধ অমান্য করে কাজ করবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারাও ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। এখন সেই ভুল দ্রুত সংশোধন করা জরুরি।
হারবাং বন বন্য প্রাণীর অন্যতম আবাসস্থল। সেখানে বন্য হাতিরও চলাচল রয়েছে। বনের ভেতর পাকা সড়ক হলে মানুষের প্রবেশ বাড়বে। বাড়বে যানবাহনও। এতে গাছ কাটা, শিকার ও বনভূমি দখলের সুযোগ তৈরি হতে পারে। হাতির চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে লোকালয়ে হাতি ঢোকার ঝুঁকিও বাড়বে। ফলে মানুষের নিরাপত্তাও হুমকিতে পড়তে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আরও কয়েকটি সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বন বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি মেলেনি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও কাজ চলার অভিযোগ উঠেছে।
সড়ক নির্মাণের আগে পরিবেশগত ও আইনগত বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। সংরক্ষিত বন রক্ষা করার জন্য সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া দরকার। উন্নয়নের জন্য সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন। তবে সেই উন্নয়ন যদি বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে হয়, তাহলে তা টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না।

আপনার মতামত লিখুন