সংবাদ

কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

তবে এই মামলায় পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল শুনানির পর এই আদেশ দেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সোমবার সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত এই দিনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাবন্দী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জুলাইযোদ্ধা হান্নান মিয়া আদালতে নিজের জবানবন্দি পেশ করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে সেদিনের আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত রোমহর্ষক ঘটনাবলির বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননসহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারকে জোর করে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন পর্দার আড়ালে নানা ধরনের উসকানি ও গভীর ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি সরাসরি কারফিউ জারির ক্ষেত্রেও তীব্র প্ররোচনা জুগিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের এই ধারাবাহিক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের পরই আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। যার ফলে রাজধানীর বাড্ডা এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২৩ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বর্তমানে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন দুজনেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করায় এখন আগামী ৭ অক্টোবর নতুন করে সাক্ষ্য উপস্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

তবে এই মামলায় পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল শুনানির পর এই আদেশ দেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সোমবার সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত এই দিনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাবন্দী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জুলাইযোদ্ধা হান্নান মিয়া আদালতে নিজের জবানবন্দি পেশ করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে সেদিনের আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত রোমহর্ষক ঘটনাবলির বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননসহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারকে জোর করে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন পর্দার আড়ালে নানা ধরনের উসকানি ও গভীর ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি সরাসরি কারফিউ জারির ক্ষেত্রেও তীব্র প্ররোচনা জুগিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের এই ধারাবাহিক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের পরই আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। যার ফলে রাজধানীর বাড্ডা এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২৩ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বর্তমানে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন দুজনেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করায় এখন আগামী ৭ অক্টোবর নতুন করে সাক্ষ্য উপস্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত