২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর দেওয়া নির্দেশনা একজন সেনা কমান্ডারের নির্দেশের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন, তা সংঘটিত অপরাধের ভয়াবহতা ও গভীরতার তুলনায় মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এ কারণেই তার এই সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জোরালো আবেদন জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করেছে।
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে মামলার অপরাধের মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এই সাজা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে প্রসিকিউশন টিম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দাখিল করেছে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, ইনুকে দেওয়া সাজা অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে মোট ১১টি সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড বা যুক্তির ভিত্তিতে এই আপিল করা হয়েছে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের পরিবর্তে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ থেকে তাকে পূর্বে খালাস দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ইনুর নেতৃত্ব ও অপরাধের ধরন তুলে ধরে প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, একজন ‘সিভিলিয়ান সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে ইনুর দেওয়া নির্দেশ সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী ছিল। একজন আর্মি কমান্ডারের নির্দেশ অনেক সময় অধীনস্তরা প্রশ্ন করতে পারেন বা না মানতেও পারেন, কিন্তু একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালামোড়া বক্তৃতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে মাঠের প্রশাসন ও অধীনস্তদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। ফলে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য একটি সার্বিক ও হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার আইন ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নজির তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ এসব যুক্তি আপিল আবেদনে উপস্থাপন করেছে।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর দেওয়া নির্দেশনা একজন সেনা কমান্ডারের নির্দেশের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন, তা সংঘটিত অপরাধের ভয়াবহতা ও গভীরতার তুলনায় মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এ কারণেই তার এই সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জোরালো আবেদন জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করেছে।
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে মামলার অপরাধের মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এই সাজা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে প্রসিকিউশন টিম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দাখিল করেছে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, ইনুকে দেওয়া সাজা অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে মোট ১১টি সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড বা যুক্তির ভিত্তিতে এই আপিল করা হয়েছে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের পরিবর্তে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ থেকে তাকে পূর্বে খালাস দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ইনুর নেতৃত্ব ও অপরাধের ধরন তুলে ধরে প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, একজন ‘সিভিলিয়ান সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে ইনুর দেওয়া নির্দেশ সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী ছিল। একজন আর্মি কমান্ডারের নির্দেশ অনেক সময় অধীনস্তরা প্রশ্ন করতে পারেন বা না মানতেও পারেন, কিন্তু একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালামোড়া বক্তৃতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে মাঠের প্রশাসন ও অধীনস্তদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। ফলে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য একটি সার্বিক ও হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার আইন ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নজির তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ এসব যুক্তি আপিল আবেদনে উপস্থাপন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন