নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা। বিপরীতে আবেদন পড়েছে প্রায় ৪৫ হাজার। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থাৎ প্রতিটি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে নয়জন আবেদন করেছেন। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে নিরপেক্ষতা আরও বেশি প্রয়োজন। অথচ বিভিন্ন এলাকায় ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ, রাজনৈতিক সুপারিশ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পছন্দের প্রার্থীদের এগিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, তদবিরের সঙ্গে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নামও আসছে। একজন প্রার্থীকে ডিলার করার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যদি যোগ্যতার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, তাহলে পুরো নিয়োগব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একইভাবে বাছাই কমিটির সদস্যের স্বজন বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সুবিধা পেলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজনৈতিক সুপারিশ বিবেচনা করা হবে না। আমরা বলব, এই নীতি বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করতে হবে।
ডিলার নিয়োগে অভিযোগ উঠেছে এমন এলাকায় প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত করা দরকার। বাছাইয়ের কারণও যথাসম্ভব প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে টাকা লেনদেন বা প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সার ডিলার নিয়োগ কোনো দলীয় অনুগ্রহ বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কাম্য নয় না। কৃষকের স্বার্থই এখানে প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত। যোগ্য ও সৎ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সার বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে কৃষক উপকৃত হবেন, বাজারেও শৃঙ্খলা ফিরবে। কৃষকের জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। সময়মতো ন্যায্য দামে সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। কৃষকের খরচও বাড়ে। তাই সার বিতরণব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা। বিপরীতে আবেদন পড়েছে প্রায় ৪৫ হাজার। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থাৎ প্রতিটি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে নয়জন আবেদন করেছেন। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে নিরপেক্ষতা আরও বেশি প্রয়োজন। অথচ বিভিন্ন এলাকায় ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ, রাজনৈতিক সুপারিশ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পছন্দের প্রার্থীদের এগিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, তদবিরের সঙ্গে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নামও আসছে। একজন প্রার্থীকে ডিলার করার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যদি যোগ্যতার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, তাহলে পুরো নিয়োগব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একইভাবে বাছাই কমিটির সদস্যের স্বজন বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সুবিধা পেলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজনৈতিক সুপারিশ বিবেচনা করা হবে না। আমরা বলব, এই নীতি বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করতে হবে।
ডিলার নিয়োগে অভিযোগ উঠেছে এমন এলাকায় প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত করা দরকার। বাছাইয়ের কারণও যথাসম্ভব প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে টাকা লেনদেন বা প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সার ডিলার নিয়োগ কোনো দলীয় অনুগ্রহ বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কাম্য নয় না। কৃষকের স্বার্থই এখানে প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত। যোগ্য ও সৎ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সার বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে কৃষক উপকৃত হবেন, বাজারেও শৃঙ্খলা ফিরবে। কৃষকের জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। সময়মতো ন্যায্য দামে সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। কৃষকের খরচও বাড়ে। তাই সার বিতরণব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন