সংবাদ

সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, স্বীকৃতি পাবে জুলাই অভ্যুত্থান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, স্বীকৃতি পাবে জুলাই অভ্যুত্থান
ছবি : সংবাদ

সংবিধান সংশোধনের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোটের বাধ্যবাধকতা রাখা হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের যেসব মৌলিক অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন আসবে, তা কার্যকর করার আগে সাংবিধানিক গণভোটের আয়োজন করতে হবে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান তুলে দেওয়াকে হাইকোর্ট আগেই অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে যা ছিল, সেটিই সঠিক। আইনের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ বা গ্রহণের তত্ত্ব। গ্রহণ সরে গেলে যেমন চাঁদ আবার দেখা যায়, তেমনি অসাংবিধানিক ঘোষণা হওয়ায় গণভোটের বিধানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।’

গণভোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন আসবে, সেগুলো কার্যকর করার আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট। এর আগে যে গণভোট হয়েছে, সেটি ছিল আইনি গণভোট।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে ফিরিয়ে আনা হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে এটি বাতিল করতে না পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যেতে হবে; এমন কঠোর বিধান রাখা হবে।’

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন বা এর কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি প্রস্তাব করেছে, বিতর্ক এড়াতে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার অপশনটি না রাখাই ভালো। বিষয়টি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতসহ মোট ৬৩ জনের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যদিও মতবিনিময়ে মোট ৬৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের সবাই অংশ নেননি। তবে আমন্ত্রণ না পেয়েও ১৪ জন মতবিনিময়ে অংশ নেন। তারা এই অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষার দাবি জানান। 

বৈঠকে বক্তাদের বেশির ভাগই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক সুরক্ষা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানান। এ ছাড়া কেউ কেউ জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো, আহতদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জুলাই যোদ্ধারা যাতে আইনি হেনস্তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার মতো দাবিও তুলে ধরেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি সংবিধানে থাকবে। কেউ কেউ এটি প্রস্তাবনায় রাখার কথা বললেও কমিটি মনে করছে এটি সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।’

তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার সেটি সেভাবেই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কমিটি আরও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে। পরবর্তী ধাপে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক বিচারপতি ও শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া হবে। বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লং মার্চ বা আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে সংবিধান সংশোধনের মূল কাজটি সংসদেই সম্পন্ন হবে।’

বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থানের আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কমিটি জানিয়েছে, সমাজের সকল স্তরের মানুষের মতামত নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিল পাসের জন্য সংসদে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, স্বীকৃতি পাবে জুলাই অভ্যুত্থান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সংবিধান সংশোধনের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোটের বাধ্যবাধকতা রাখা হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের যেসব মৌলিক অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন আসবে, তা কার্যকর করার আগে সাংবিধানিক গণভোটের আয়োজন করতে হবে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান তুলে দেওয়াকে হাইকোর্ট আগেই অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে যা ছিল, সেটিই সঠিক। আইনের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ বা গ্রহণের তত্ত্ব। গ্রহণ সরে গেলে যেমন চাঁদ আবার দেখা যায়, তেমনি অসাংবিধানিক ঘোষণা হওয়ায় গণভোটের বিধানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।’

গণভোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন আসবে, সেগুলো কার্যকর করার আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট। এর আগে যে গণভোট হয়েছে, সেটি ছিল আইনি গণভোট।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে ফিরিয়ে আনা হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে এটি বাতিল করতে না পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যেতে হবে; এমন কঠোর বিধান রাখা হবে।’

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন বা এর কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি প্রস্তাব করেছে, বিতর্ক এড়াতে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার অপশনটি না রাখাই ভালো। বিষয়টি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতসহ মোট ৬৩ জনের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যদিও মতবিনিময়ে মোট ৬৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের সবাই অংশ নেননি। তবে আমন্ত্রণ না পেয়েও ১৪ জন মতবিনিময়ে অংশ নেন। তারা এই অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষার দাবি জানান। 

বৈঠকে বক্তাদের বেশির ভাগই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক সুরক্ষা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানান। এ ছাড়া কেউ কেউ জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো, আহতদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জুলাই যোদ্ধারা যাতে আইনি হেনস্তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার মতো দাবিও তুলে ধরেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি সংবিধানে থাকবে। কেউ কেউ এটি প্রস্তাবনায় রাখার কথা বললেও কমিটি মনে করছে এটি সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।’

তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার সেটি সেভাবেই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কমিটি আরও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে। পরবর্তী ধাপে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক বিচারপতি ও শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া হবে। বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লং মার্চ বা আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে সংবিধান সংশোধনের মূল কাজটি সংসদেই সম্পন্ন হবে।’

বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থানের আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কমিটি জানিয়েছে, সমাজের সকল স্তরের মানুষের মতামত নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিল পাসের জন্য সংসদে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত