ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির পক্ষ থেকে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দিল্লি পুলিশ এর কোনো ধরনের অনুমতি দেয়নি। তবে আয়োজকেরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনায় এখনো সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা চরমভাবে জোরদার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫ হাজার সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরসহ রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকার আশপাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া বিক্ষোভকারীদের আটকাতে প্রধান সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের শক্তিশালী ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শব্দ ধারণের সুবিধাসম্পন্ন তিনশর বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে বিশেষ বডি কেম লাগানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করতে শতাধিক আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলেও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল রাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন গন্তব্যের ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭৯টি লোকাল ও ৭৫টি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, লজ ও অতিথিশালায় তল্লাশি চালিয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিক্ষোভের আয়োজক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগ এড়াতে মেট্রো, ট্রেন ও সড়কে যখন এই নজিরবিহীন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তখন সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কারণে কি উল্টো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে না? এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকদের এই অনড় অবস্থানের ফলে পুরো দিল্লি জুড়েই এক থমথমে ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির পক্ষ থেকে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দিল্লি পুলিশ এর কোনো ধরনের অনুমতি দেয়নি। তবে আয়োজকেরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনায় এখনো সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা চরমভাবে জোরদার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫ হাজার সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরসহ রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকার আশপাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া বিক্ষোভকারীদের আটকাতে প্রধান সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের শক্তিশালী ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শব্দ ধারণের সুবিধাসম্পন্ন তিনশর বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে বিশেষ বডি কেম লাগানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করতে শতাধিক আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলেও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল রাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন গন্তব্যের ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭৯টি লোকাল ও ৭৫টি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, লজ ও অতিথিশালায় তল্লাশি চালিয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিক্ষোভের আয়োজক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগ এড়াতে মেট্রো, ট্রেন ও সড়কে যখন এই নজিরবিহীন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তখন সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কারণে কি উল্টো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে না? এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকদের এই অনড় অবস্থানের ফলে পুরো দিল্লি জুড়েই এক থমথমে ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন