সংবাদ

দুই দশকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৭ হাজার, আতঙ্কে বাসিন্দারা


প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ এএম

দুই দশকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৭ হাজার, আতঙ্কে বাসিন্দারা
প্রতীকী ছবি

মেহেরপুরে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। প্রথমে গবাদিপশু আক্রান্ত হলেও পরে সেই পশুর মাংস খাওয়া কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় স্পর্শে এসে আক্রান্ত হচ্ছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। মেহেরপুরজুড়ে এখন অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর এই রোগের প্রাদুর্ভাব থাকলেও নিয়মিত টিকাদান ও পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবে প্রতিবছরই বাড়ছে রোগী।

২০০৭ সালে মেহেরপুর জেলায় প্রথম অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়। গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামে প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই দশকে কেবল গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেই প্রায় ৭ হাজার মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও আক্রান্তদের শরীরে তৈরি হওয়া দগদগে ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন যন্ত্রণাদায়ক দিন কাটাতে হচ্ছে।

চলতি ২০২৬ সালের চিত্র আরও উদ্বেগের। চার মাসে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬২ জনে। পাশাপাশি দুই শতাধিক গবাদিপশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া বামন্দী, কাজীপুর, মটমুড়া, সাহারবাটি ও রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই করে কম দামে মাংস বিক্রি করার প্রবণতাই এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৩ সালে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ছিলেন ১৯৯ জন। এরপর ২০১৪ সালে ২০৩, ২০১৫ সালে ১৫৪, ২০১৬ সালে ২৪০, ২০১৭ সালে ২৮১, ২০১৮ সালে ৪০৮, ২০১৯ সালে ৬৬০, ২০২০ সালে ৩৭৮, ২০২১ সালে ৪১৭, ২০২২ সালে ৬৪৪, ২০২৩ সালে ৭৯৩ এবং ২০২৪ সালে ৬৮৬ জন আক্রান্ত হন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৩৭ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬২ জন।

গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, 'গাংনী এলাকাটি অ্যানথ্রাক্সপ্রবণ। আমরা মাঠপর্যায়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পরামর্শ দিচ্ছি। কোনো অবস্থাতেই যাতে অসুস্থ পশু জবাই করা না হয়, সে বিষয়ে জোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


দুই দশকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৭ হাজার, আতঙ্কে বাসিন্দারা

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মেহেরপুরে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। প্রথমে গবাদিপশু আক্রান্ত হলেও পরে সেই পশুর মাংস খাওয়া কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় স্পর্শে এসে আক্রান্ত হচ্ছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। মেহেরপুরজুড়ে এখন অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর এই রোগের প্রাদুর্ভাব থাকলেও নিয়মিত টিকাদান ও পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবে প্রতিবছরই বাড়ছে রোগী।

২০০৭ সালে মেহেরপুর জেলায় প্রথম অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়। গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামে প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই দশকে কেবল গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেই প্রায় ৭ হাজার মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও আক্রান্তদের শরীরে তৈরি হওয়া দগদগে ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন যন্ত্রণাদায়ক দিন কাটাতে হচ্ছে।

চলতি ২০২৬ সালের চিত্র আরও উদ্বেগের। চার মাসে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬২ জনে। পাশাপাশি দুই শতাধিক গবাদিপশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া বামন্দী, কাজীপুর, মটমুড়া, সাহারবাটি ও রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই করে কম দামে মাংস বিক্রি করার প্রবণতাই এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৩ সালে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ছিলেন ১৯৯ জন। এরপর ২০১৪ সালে ২০৩, ২০১৫ সালে ১৫৪, ২০১৬ সালে ২৪০, ২০১৭ সালে ২৮১, ২০১৮ সালে ৪০৮, ২০১৯ সালে ৬৬০, ২০২০ সালে ৩৭৮, ২০২১ সালে ৪১৭, ২০২২ সালে ৬৪৪, ২০২৩ সালে ৭৯৩ এবং ২০২৪ সালে ৬৮৬ জন আক্রান্ত হন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৩৭ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬২ জন।

গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, 'গাংনী এলাকাটি অ্যানথ্রাক্সপ্রবণ। আমরা মাঠপর্যায়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পরামর্শ দিচ্ছি। কোনো অবস্থাতেই যাতে অসুস্থ পশু জবাই করা না হয়, সে বিষয়ে জোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত