সংবাদ

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র হত্যায় গ্রেপ্তার ৩, আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ


প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র হত্যায় গ্রেপ্তার ৩, আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, একটি কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

এর আগে একই দিন ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারপুর এলাকার মো. দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মৃত সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পরে গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দি ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত ৯ অক্টোবর নিহতের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমাসংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে বস্তাবন্দি করা হয়। পরে বস্তার সঙ্গে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে লাশটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা এবং রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে ফিরোজ সরদার বাবু ও রিয়াজ সরদার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আর শরীফ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। মূলত তারা ভাড়ায় চালিত খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। এদের অর্থ সরবরাহকারী বা মূল পরিকল্পনাকারীকে তা তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নিহত কলেজছাত্রের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা টাকার চুক্তির বিনিময়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।’

এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে উত্তপ্ত জনতা আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত রোহানের স্বজনদের পুকুর থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাতে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা রোহান হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র হত্যায় গ্রেপ্তার ৩, আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, একটি কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

এর আগে একই দিন ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারপুর এলাকার মো. দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মৃত সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পরে গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দি ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত ৯ অক্টোবর নিহতের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমাসংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে বস্তাবন্দি করা হয়। পরে বস্তার সঙ্গে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে লাশটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা এবং রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে ফিরোজ সরদার বাবু ও রিয়াজ সরদার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আর শরীফ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। মূলত তারা ভাড়ায় চালিত খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। এদের অর্থ সরবরাহকারী বা মূল পরিকল্পনাকারীকে তা তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নিহত কলেজছাত্রের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা টাকার চুক্তির বিনিময়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।’

এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে উত্তপ্ত জনতা আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত রোহানের স্বজনদের পুকুর থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাতে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা রোহান হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত