সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০


প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
ছবি : সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ ও একজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর একপক্ষের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছামেদ আলী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার এবং ধলেশ্বরী নদীর তীরের ইটভাটায় শ্রমিক ও মাটি সরবরাহের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে আকবরনগরের পাশের গ্রাম চরবক্তাবলীতে ইউনিয়ন কৃষক দলের উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে হালিম আজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা ও ভূরিভোজ শেষে দুপুরে অনুসারীদের নিয়ে আকবরনগর গ্রামে ছামেদ আলীর বাড়ির সামনে মহড়া দেন হালিম আজাদ। এ সময় ছামেদের লোকজনের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষকালে ছামেদ আলীর ছোট ছেলে মো. হৃদয় (২৬) গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আলাউদ্দিন শেখের ছেলে রাজু শেখের (৩০) পায়ে দুটি টেঁটা বিদ্ধ হয়। তাকেও ঢামেকে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজু শেখ বলেন, ‘আমরা বিএনপির লোক। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকায় মিছিল-মিটিং করছে এবং আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইটভাটাগুলো তারা দখল করে রেখেছে। এসবের প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে গুলিবিদ্ধ হৃদয় বলেন, ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা হালিমের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে।’

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হালিম আজাদ বলেন, ‘কৃষক দলের কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ছামেদ আলীর ক্যাডাররা আমাদের ওপর হামলা চালায়। ছামেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি। সে ও তার লোকজন ইটভাটায় চাঁদাবাজি করছে। আমরা চাঁদাবাজির বিপক্ষে, কোনো হামলার সঙ্গে আমরা জড়িত নই।’

এদিকে, দুপুর তিনটার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছামেদ আলীর বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছামেদ আলী দাবি করেন, ‘আমি কোনো পদে ছিলাম না, শুধু আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাজনীতি করতাম। আগস্টের পর থেকে আমার ব্যবসা-বাণিজ্য সব দখল করেছে বিএনপির লোকজন। এখন ভিটেমাটি থেকেও সরাতে চায়।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছটার দিকে আকবরনগরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বেশ কিছু টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ ও একজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর একপক্ষের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছামেদ আলী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার এবং ধলেশ্বরী নদীর তীরের ইটভাটায় শ্রমিক ও মাটি সরবরাহের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে আকবরনগরের পাশের গ্রাম চরবক্তাবলীতে ইউনিয়ন কৃষক দলের উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে হালিম আজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা ও ভূরিভোজ শেষে দুপুরে অনুসারীদের নিয়ে আকবরনগর গ্রামে ছামেদ আলীর বাড়ির সামনে মহড়া দেন হালিম আজাদ। এ সময় ছামেদের লোকজনের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষকালে ছামেদ আলীর ছোট ছেলে মো. হৃদয় (২৬) গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আলাউদ্দিন শেখের ছেলে রাজু শেখের (৩০) পায়ে দুটি টেঁটা বিদ্ধ হয়। তাকেও ঢামেকে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজু শেখ বলেন, ‘আমরা বিএনপির লোক। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকায় মিছিল-মিটিং করছে এবং আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইটভাটাগুলো তারা দখল করে রেখেছে। এসবের প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে গুলিবিদ্ধ হৃদয় বলেন, ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা হালিমের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে।’

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হালিম আজাদ বলেন, ‘কৃষক দলের কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ছামেদ আলীর ক্যাডাররা আমাদের ওপর হামলা চালায়। ছামেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি। সে ও তার লোকজন ইটভাটায় চাঁদাবাজি করছে। আমরা চাঁদাবাজির বিপক্ষে, কোনো হামলার সঙ্গে আমরা জড়িত নই।’

এদিকে, দুপুর তিনটার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছামেদ আলীর বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছামেদ আলী দাবি করেন, ‘আমি কোনো পদে ছিলাম না, শুধু আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাজনীতি করতাম। আগস্টের পর থেকে আমার ব্যবসা-বাণিজ্য সব দখল করেছে বিএনপির লোকজন। এখন ভিটেমাটি থেকেও সরাতে চায়।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছটার দিকে আকবরনগরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বেশ কিছু টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত