শহরকে নিজের মনে করে পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় প্রতি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোনো সমস্যারই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) চসিকের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড. কিসিঞ্জার চাকমা।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই শহর শুধু আমার একার নয়। এখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন, আমরা আছি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বসবাস করবে। যতদিন পর্যন্ত নগরবাসী মনে না করবেন যে এটি তাদের নিজেদের শহর, ততদিন পর্যন্ত শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে সমাধান মিলবে না। নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। জলপ্রবাহের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত না করার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে।’
নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘গতকাল দেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছি, আজ সেখানে লরি রেখে দখল করা হয়েছে। কেউ যদি সাইকেল ট্র্যাক বা ফুটপাত দখল করে অথবা স্থাপনা নষ্ট করে, তবে শুধু চসিককে দোষারোপ না করে নগরবাসীকেও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানুষ আইন মানতে উৎসাহিত হবে না। চসিক স্থাপিত অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করাও নাগরিকদের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চসিক পরিচালিত ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারসহ প্রায় ২ লাখ মানুষকে জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ কার্যক্রমের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট বিতরণ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল আলম কচি ও থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক ওভিক ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হক। সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রোমিলা বড়ুয়া।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
শহরকে নিজের মনে করে পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় প্রতি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোনো সমস্যারই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) চসিকের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড. কিসিঞ্জার চাকমা।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই শহর শুধু আমার একার নয়। এখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন, আমরা আছি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বসবাস করবে। যতদিন পর্যন্ত নগরবাসী মনে না করবেন যে এটি তাদের নিজেদের শহর, ততদিন পর্যন্ত শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে সমাধান মিলবে না। নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। জলপ্রবাহের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত না করার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে।’
নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘গতকাল দেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছি, আজ সেখানে লরি রেখে দখল করা হয়েছে। কেউ যদি সাইকেল ট্র্যাক বা ফুটপাত দখল করে অথবা স্থাপনা নষ্ট করে, তবে শুধু চসিককে দোষারোপ না করে নগরবাসীকেও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানুষ আইন মানতে উৎসাহিত হবে না। চসিক স্থাপিত অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করাও নাগরিকদের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চসিক পরিচালিত ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারসহ প্রায় ২ লাখ মানুষকে জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ কার্যক্রমের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট বিতরণ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল আলম কচি ও থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক ওভিক ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হক। সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রোমিলা বড়ুয়া।

আপনার মতামত লিখুন