সংবাদ

রংপুরের প্রকল্প লালমনিরহাটে নেওয়ার প্রস্তাবে চরম ক্ষোভ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

রংপুরের প্রকল্প লালমনিরহাটে নেওয়ার প্রস্তাবে চরম ক্ষোভ

রংপুর বিভাগের জন্য অনুমোদিত ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র লালমনিরহাটে স্থাপনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রংপুরের জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর ডিও লেটারের (আধা-সরকারি পত্র) ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে জরুরি ভিত্তিতে পূর্বানুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একনেক অনুমোদিত এই প্রকল্পে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে।

প্রকল্পটির ডিপিপিতে রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলেও সেটি তিন ফসলি হওয়ায় জমির মালিকদের আপত্তির অজুহাতে মন্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে লালমনিরহাট সদরের বড়বাড়ি ইউনিয়নে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভাগীয় সদর ছেড়ে অন্য জেলায় প্রকল্প নেওয়ার এমন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলসহ ‘সর্বস্তরের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছেন।

প্রকল্পটি নিজ শহরেই রাখার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতারা। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কথা বলা হলেও আমাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়নি। সরকারি এ ধরনের প্রকল্পের জন্য রংপুরে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যাবে।’

রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই রংপুরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্য কোনো জেলা নিজ এলাকায় প্রকল্প চাইলে সেটি আলাদাভাবে করতে পারে।’

একই সুর তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর মহানগরের সদস্যসচিব আব্দুল মালেক বলেন, ‘রংপুরের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র লালমনিরহাটে স্থানান্তরের জন্য ত্রাণমন্ত্রী আবেদন করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য হলে এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা ও জনস্বার্থ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। বিষয়টি শুধু অবস্থান নির্ধারণের প্রশ্ন নয়, এটি রংপুর অঞ্চলের মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার, উন্নয়নের ন্যায্য বণ্টন এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধের প্রশ্ন।’

এছাড়া সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মোস্তফা সাব্বির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রংপুর বিভাগের প্রাণকেন্দ্র রংপুর সিটি করপোরেশন। ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র লালমনিরহাটের বড়বাড়িতে স্থাপনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা অযৌক্তিক। বড়বাড়ি একটি পকেট এরিয়া। সেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হলে বিভাগের অন্য জেলা ও উপজেলার মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই রংপুর শহরেই এটা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

সংসদীয় আসনের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘আমি এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছি না। যেহেতু রংপুর সিটি করপোরেশন এবং বিভাগের হেডকোয়ার্টার, তাই এই ধরনের মাদক নিরাময় কেন্দ্র আমাদের এখানে হওয়াই উচিত। আমাদের এই ভাগের কেন্দ্রটা নিয়ে যাওয়া মোটেও সমীচীন নয়। আমি এর প্রতিবাদ করছি।’

অপরদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘রংপুর এমন জায়গায় অবস্থিত, যেখান থেকে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাটের মোগলহাটের দূরত্ব প্রায় সমান। ফলে সেবাধর্মী কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপন করা হলে সেবা শতভাগ নিশ্চিত হবে না। জনসেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে যে স্থানে স্থাপন করলে সবাই সমানভাবে সুবিধা পাবে, সেটিই বেছে নেওয়া উচিত। বিগত সরকারের সময় প্রকল্পের বড় অংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলে যেত। এখনো মন্ত্রীরা যদি প্রকল্প নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান, তাহলে সমতা বজায় থাকবে না। যে উদ্দেশ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়, তার ফলও তখন নিশ্চিত হয় না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ হোসেন নিশ্চিত করেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা বিষয়টি জানলেও প্রকল্পটি রংপুরে বাস্তবায়নের জন্যই তারা দাপ্তরিকভাবে কাজ করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


রংপুরের প্রকল্প লালমনিরহাটে নেওয়ার প্রস্তাবে চরম ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রংপুর বিভাগের জন্য অনুমোদিত ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র লালমনিরহাটে স্থাপনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রংপুরের জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর ডিও লেটারের (আধা-সরকারি পত্র) ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে জরুরি ভিত্তিতে পূর্বানুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একনেক অনুমোদিত এই প্রকল্পে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে।

প্রকল্পটির ডিপিপিতে রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলেও সেটি তিন ফসলি হওয়ায় জমির মালিকদের আপত্তির অজুহাতে মন্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে লালমনিরহাট সদরের বড়বাড়ি ইউনিয়নে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভাগীয় সদর ছেড়ে অন্য জেলায় প্রকল্প নেওয়ার এমন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলসহ ‘সর্বস্তরের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছেন।

প্রকল্পটি নিজ শহরেই রাখার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতারা। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কথা বলা হলেও আমাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়নি। সরকারি এ ধরনের প্রকল্পের জন্য রংপুরে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যাবে।’

রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই রংপুরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্য কোনো জেলা নিজ এলাকায় প্রকল্প চাইলে সেটি আলাদাভাবে করতে পারে।’

একই সুর তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর মহানগরের সদস্যসচিব আব্দুল মালেক বলেন, ‘রংপুরের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র লালমনিরহাটে স্থানান্তরের জন্য ত্রাণমন্ত্রী আবেদন করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য হলে এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা ও জনস্বার্থ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। বিষয়টি শুধু অবস্থান নির্ধারণের প্রশ্ন নয়, এটি রংপুর অঞ্চলের মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার, উন্নয়নের ন্যায্য বণ্টন এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধের প্রশ্ন।’

এছাড়া সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মোস্তফা সাব্বির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রংপুর বিভাগের প্রাণকেন্দ্র রংপুর সিটি করপোরেশন। ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র লালমনিরহাটের বড়বাড়িতে স্থাপনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা অযৌক্তিক। বড়বাড়ি একটি পকেট এরিয়া। সেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হলে বিভাগের অন্য জেলা ও উপজেলার মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই রংপুর শহরেই এটা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

সংসদীয় আসনের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘আমি এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছি না। যেহেতু রংপুর সিটি করপোরেশন এবং বিভাগের হেডকোয়ার্টার, তাই এই ধরনের মাদক নিরাময় কেন্দ্র আমাদের এখানে হওয়াই উচিত। আমাদের এই ভাগের কেন্দ্রটা নিয়ে যাওয়া মোটেও সমীচীন নয়। আমি এর প্রতিবাদ করছি।’

অপরদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘রংপুর এমন জায়গায় অবস্থিত, যেখান থেকে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাটের মোগলহাটের দূরত্ব প্রায় সমান। ফলে সেবাধর্মী কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপন করা হলে সেবা শতভাগ নিশ্চিত হবে না। জনসেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে যে স্থানে স্থাপন করলে সবাই সমানভাবে সুবিধা পাবে, সেটিই বেছে নেওয়া উচিত। বিগত সরকারের সময় প্রকল্পের বড় অংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলে যেত। এখনো মন্ত্রীরা যদি প্রকল্প নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান, তাহলে সমতা বজায় থাকবে না। যে উদ্দেশ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়, তার ফলও তখন নিশ্চিত হয় না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ হোসেন নিশ্চিত করেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা বিষয়টি জানলেও প্রকল্পটি রংপুরে বাস্তবায়নের জন্যই তারা দাপ্তরিকভাবে কাজ করছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত