ক্ষমতায় থাকার ১৩তম বছরে এসে একসঙ্গে তিন ধরনের কঠিন ও অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিকে রাজধানীজুড়ে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) তীব্র বিক্ষোভ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নানা তড়িৎ পদক্ষেপের পরও ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর ধারাবাহিক ও মারাত্মক পতন। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য খাতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় সব মিলিয়ে মোদী সরকারের সামনে এখন দারুণ এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত মানুষকে আটক করার পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়া এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কেন্দ্র করে তরুণ আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমেছে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের সমালোচনা নিয়ে দেশটির জনসাধারণের একটি বড় অংশ এখন তীব্র ক্ষুব্ধ।” ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় মোদী সরকারের পক্ষে নীরব থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিক বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম ভারতের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। মুম্বাইভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিস্টেম্যাটিক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ধনঞ্জয় সিনহা পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলেন, “বাণিজ্যিক উত্তেজনা ভারতের সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাবনা ও রুপির জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা মূলধন তুলে নেওয়ায় মুদ্রাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিকভাবে নিজেকে দুর্বল দেখানোর আশঙ্কা থেকেই হয়তো ভারত মার্কিন নীতি ও চাপের বিরুদ্ধে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিচ্ছ। কারণ ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকার করছে; এমন কোনো ধারণা যেন জনগণের কাছে তৈরি না হয়।
সব মিলিয়ে গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যার মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টেনে নেওয়া, মুদ্রা মান রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ আন্দোলন সামলানো; এই চতুর্মুখী সংকটে মোদী প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতি গ্রহণ এখন কঠিন এক পরীক্ষার মুখে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ক্ষমতায় থাকার ১৩তম বছরে এসে একসঙ্গে তিন ধরনের কঠিন ও অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিকে রাজধানীজুড়ে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) তীব্র বিক্ষোভ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নানা তড়িৎ পদক্ষেপের পরও ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর ধারাবাহিক ও মারাত্মক পতন। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য খাতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় সব মিলিয়ে মোদী সরকারের সামনে এখন দারুণ এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত মানুষকে আটক করার পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়া এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কেন্দ্র করে তরুণ আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমেছে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের সমালোচনা নিয়ে দেশটির জনসাধারণের একটি বড় অংশ এখন তীব্র ক্ষুব্ধ।” ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় মোদী সরকারের পক্ষে নীরব থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিক বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম ভারতের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। মুম্বাইভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিস্টেম্যাটিক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ধনঞ্জয় সিনহা পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলেন, “বাণিজ্যিক উত্তেজনা ভারতের সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাবনা ও রুপির জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা মূলধন তুলে নেওয়ায় মুদ্রাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিকভাবে নিজেকে দুর্বল দেখানোর আশঙ্কা থেকেই হয়তো ভারত মার্কিন নীতি ও চাপের বিরুদ্ধে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিচ্ছ। কারণ ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকার করছে; এমন কোনো ধারণা যেন জনগণের কাছে তৈরি না হয়।
সব মিলিয়ে গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যার মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টেনে নেওয়া, মুদ্রা মান রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ আন্দোলন সামলানো; এই চতুর্মুখী সংকটে মোদী প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতি গ্রহণ এখন কঠিন এক পরীক্ষার মুখে।

আপনার মতামত লিখুন