রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ডিওএইচএস এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, "গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।"
তদন্ত সূত্রে তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে মিলে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে 'ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট' নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং 'কালআজকাল.কম' নামের একটি পেজের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গ্রেপ্তার কাজী গুলশান আরার সরাসরি যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০০৭ সালে লেফটেন্যান্ট হিসেবে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজের অভিজ্ঞতা তৈরি করে তিনি সিকিউরিটি ৩৬০ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের সাব-ট্যাকটিক্যাল আরবান ওয়ারফেয়ার বা গেরিলা পদ্ধতির কৌশলভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিকুল ইসলাম সাদেক নামের অপর এক সাবেক কর্মকর্তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন: বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সিএমএইচ, পপুলার হাসপাতাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নাশকতা চালানো। এ জন্য রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাসে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এর মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি বোমা, আশুলিয়ায় ‘প্রেশার কুকার বোমা’, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা ও বিস্ফোরণ, যশোরের গ্রেনেড, সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিস্ফোরণ এবং সাভারের একটি মসজিদের মাঠ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো বোমা উদ্ধারের মত ঘটনা রয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণে তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, সিকিউরিটি কোম্পানির লজিস্টিকস ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সংগঠিত করার এই প্রয়াস দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
এজাহার
সোমবার
পল্লবী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ওই
দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই এজাহারটি দায়ের
করে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অভিযোগ আনা
হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে
রাষ্ট্রবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত
থাকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ তহবিল বা
অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচার করা।
পুলিশের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক
ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে
কাজী গুলশান আরাকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার নিজ
বাসা থেকে রাত সাড়ে
১২টার দিকে এবং পরবর্তীতে
তার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষকে বনানী ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে রাত
আড়াইটার দিকে গ্রেফতার করা
হয়।
এজাহারে
উল্লেখ করা হয়েছে, কাজী
গুলশান আরা ও তার
সহযোগীরা পল্লবীর বাসায় বসে ‘Bangladesh Awami League
Supporters Alpha #1’ এবং
‘BBM Transparency’ এর মতো বিভিন্ন অনলাইন
প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের
সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সহিংসতামূলক ডিজিটাল
কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং এর জন্য
গোপন তহবিল সংগ্রহ করছিলেন।
এছাড়া
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে
গঠিত ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ,
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আ’লীগের
পুনর্বাসন ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ নানা
ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত ছিলেন
বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘কালআজকাল.কম’ নামক একটি
ফেসবুক পেজ তৈরি করে
দেশে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে
দেওয়ার মতো বিভিন্ন কনটেন্ট
প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
পুলিশের
দাবি, ২০১৮ সালের ২৭
নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে
কাজী গুলশান আরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুগত্য প্রকাশ
করেছিলেন এবং ১০১ জনকে
নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামক
একটি কমিটি গঠন করে সক্রিয়
সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ডিওএইচএস এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, "গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।"
তদন্ত সূত্রে তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে মিলে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে 'ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট' নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং 'কালআজকাল.কম' নামের একটি পেজের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গ্রেপ্তার কাজী গুলশান আরার সরাসরি যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০০৭ সালে লেফটেন্যান্ট হিসেবে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজের অভিজ্ঞতা তৈরি করে তিনি সিকিউরিটি ৩৬০ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের সাব-ট্যাকটিক্যাল আরবান ওয়ারফেয়ার বা গেরিলা পদ্ধতির কৌশলভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিকুল ইসলাম সাদেক নামের অপর এক সাবেক কর্মকর্তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন: বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সিএমএইচ, পপুলার হাসপাতাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নাশকতা চালানো। এ জন্য রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাসে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এর মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি বোমা, আশুলিয়ায় ‘প্রেশার কুকার বোমা’, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা ও বিস্ফোরণ, যশোরের গ্রেনেড, সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিস্ফোরণ এবং সাভারের একটি মসজিদের মাঠ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো বোমা উদ্ধারের মত ঘটনা রয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণে তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, সিকিউরিটি কোম্পানির লজিস্টিকস ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সংগঠিত করার এই প্রয়াস দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
এজাহার
সোমবার
পল্লবী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ওই
দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই এজাহারটি দায়ের
করে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অভিযোগ আনা
হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে
রাষ্ট্রবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত
থাকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ তহবিল বা
অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচার করা।
পুলিশের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক
ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে
কাজী গুলশান আরাকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার নিজ
বাসা থেকে রাত সাড়ে
১২টার দিকে এবং পরবর্তীতে
তার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষকে বনানী ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে রাত
আড়াইটার দিকে গ্রেফতার করা
হয়।
এজাহারে
উল্লেখ করা হয়েছে, কাজী
গুলশান আরা ও তার
সহযোগীরা পল্লবীর বাসায় বসে ‘Bangladesh Awami League
Supporters Alpha #1’ এবং
‘BBM Transparency’ এর মতো বিভিন্ন অনলাইন
প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের
সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সহিংসতামূলক ডিজিটাল
কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং এর জন্য
গোপন তহবিল সংগ্রহ করছিলেন।
এছাড়া
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে
গঠিত ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ,
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আ’লীগের
পুনর্বাসন ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ নানা
ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত ছিলেন
বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘কালআজকাল.কম’ নামক একটি
ফেসবুক পেজ তৈরি করে
দেশে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে
দেওয়ার মতো বিভিন্ন কনটেন্ট
প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
পুলিশের
দাবি, ২০১৮ সালের ২৭
নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে
কাজী গুলশান আরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুগত্য প্রকাশ
করেছিলেন এবং ১০১ জনকে
নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামক
একটি কমিটি গঠন করে সক্রিয়
সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন