অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কিন্তু বাস্তবে নানা কারণে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। কারও কাছে চিকিৎসার ব্যয় বড় বাধা, কেউ আবার রোগ ধরা পড়ার ভয় কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সংকোচে পিছিয়ে থাকেন। কাজের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং উপযুক্ত চিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ার সমস্যাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে কী কী কারণ কাজ করে, তা জানা থাকলে নিজের কিংবা কাছের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।
চিকিৎসার ব্যয়ই বড় দুশ্চিন্তা
চিকিৎসা নিতে অনীহার অন্যতম কারণ খরচের ভয়। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে সেবা নেওয়া অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও সেখানে রোগীর ভিড় বেশি হতে পারে।
এর পাশাপাশি রোগ শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও রোগীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। সব পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালেই করানো সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে গেলে কত টাকা খরচ হবে, সেই দুশ্চিন্তায় অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পিছিয়ে দেন।
সুস্থ বোধ করলেও ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগ্রহ কম থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে কোনো অসুস্থতা অনুভব না করলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি পুরোপুরি নেই, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।
ধূমপানের মতো কিছু ঝুঁকি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও বংশগত ও পরিবেশগত কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি সব সময় বোঝা যায় না। নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো মনে হওয়া কিংবা পরিবারে কোনো রোগের ইতিহাস না থাকলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
রোগ ধরা পড়ার ভয় ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সংকোচ
চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে মানসিক অস্বস্তিও কাজ করতে পারে। কেউ সুচ বা হাসপাতালকে ভয় পান, আবার কেউ গুরুতর কোনো রোগ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও অনেকে খোলামেলা কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। মলত্যাগের অভ্যাস, যৌনজীবন, শারীরিক পরীক্ষা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সময় লজ্জা ও সংকোচ তৈরি হতে পারে। অতীতে কোনো আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা থাকলেও চিকিৎসা নেওয়া কঠিন মনে হতে পারে।
আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করেন, চিকিৎসক হয়তো তাঁদের উপসর্গকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবেন না। এসব ভয় ও অস্বস্তির কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নেওয়া পিছিয়ে যেতে পারে।
যাতায়াত, সময় ও পারিবারিক দায়িত্বের চাপ
চিকিৎসা নিতে চাইলেও সবার পক্ষে সহজে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া সম্ভব হয় না। দারিদ্র্য, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা এবং যাতায়াতের অসুবিধা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
কখনো চিকিৎসকের কাছে যেতে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করায় কেউ কেউ সেই উদ্যোগ নেন না। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কিংবা যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না পেলে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো আরও কঠিন হতে পারে।
কাজ, পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও চিকিৎসা নেওয়ার সময় কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকের কাছে যেতে ছুটি নিলে কাজের সময় ও আয়ের ক্ষতি হতে পারে। ছোট সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না পাওয়ায় অনেকে চিকিৎসা নিতে পারেন না।
কোথায় গেলে চিকিৎসা পাওয়া যাবে, কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন কিংবা জটিল সমস্যার জন্য কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে - এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তাও চিকিৎসা নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ শহরের তুলনায় সীমিত হতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দূরে যাতায়াত করতে হয়, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়ায়।
এ ক্ষেত্রে টেলিহেলথ সেবা একটি বিকল্প হতে পারে। এর মাধ্যমে হাসপাতালে সরাসরি না গিয়েও চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাদাতার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
বাধা চেনা জরুরি
চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অনিচ্ছা নয়, আর্থিক চাপ, ভয়, সংকোচ, সময়ের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। এসব বাধা চিহ্নিত করতে পারলে নিজের বা প্রিয়জনের চিকিৎসা নেওয়ার পথে সমস্যাগুলো বুঝতে এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সুবিধা হয়।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কিন্তু বাস্তবে নানা কারণে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। কারও কাছে চিকিৎসার ব্যয় বড় বাধা, কেউ আবার রোগ ধরা পড়ার ভয় কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সংকোচে পিছিয়ে থাকেন। কাজের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং উপযুক্ত চিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ার সমস্যাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে কী কী কারণ কাজ করে, তা জানা থাকলে নিজের কিংবা কাছের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।
চিকিৎসার ব্যয়ই বড় দুশ্চিন্তা
চিকিৎসা নিতে অনীহার অন্যতম কারণ খরচের ভয়। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে সেবা নেওয়া অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও সেখানে রোগীর ভিড় বেশি হতে পারে।
এর পাশাপাশি রোগ শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও রোগীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। সব পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালেই করানো সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে গেলে কত টাকা খরচ হবে, সেই দুশ্চিন্তায় অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পিছিয়ে দেন।
সুস্থ বোধ করলেও ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগ্রহ কম থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে কোনো অসুস্থতা অনুভব না করলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি পুরোপুরি নেই, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।
ধূমপানের মতো কিছু ঝুঁকি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও বংশগত ও পরিবেশগত কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি সব সময় বোঝা যায় না। নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো মনে হওয়া কিংবা পরিবারে কোনো রোগের ইতিহাস না থাকলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
রোগ ধরা পড়ার ভয় ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সংকোচ
চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে মানসিক অস্বস্তিও কাজ করতে পারে। কেউ সুচ বা হাসপাতালকে ভয় পান, আবার কেউ গুরুতর কোনো রোগ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও অনেকে খোলামেলা কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। মলত্যাগের অভ্যাস, যৌনজীবন, শারীরিক পরীক্ষা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সময় লজ্জা ও সংকোচ তৈরি হতে পারে। অতীতে কোনো আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা থাকলেও চিকিৎসা নেওয়া কঠিন মনে হতে পারে।
আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করেন, চিকিৎসক হয়তো তাঁদের উপসর্গকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবেন না। এসব ভয় ও অস্বস্তির কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নেওয়া পিছিয়ে যেতে পারে।
যাতায়াত, সময় ও পারিবারিক দায়িত্বের চাপ
চিকিৎসা নিতে চাইলেও সবার পক্ষে সহজে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া সম্ভব হয় না। দারিদ্র্য, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা এবং যাতায়াতের অসুবিধা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
কখনো চিকিৎসকের কাছে যেতে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করায় কেউ কেউ সেই উদ্যোগ নেন না। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কিংবা যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না পেলে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো আরও কঠিন হতে পারে।
কাজ, পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও চিকিৎসা নেওয়ার সময় কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকের কাছে যেতে ছুটি নিলে কাজের সময় ও আয়ের ক্ষতি হতে পারে। ছোট সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না পাওয়ায় অনেকে চিকিৎসা নিতে পারেন না।
কোথায় গেলে চিকিৎসা পাওয়া যাবে, কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন কিংবা জটিল সমস্যার জন্য কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে - এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তাও চিকিৎসা নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ শহরের তুলনায় সীমিত হতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দূরে যাতায়াত করতে হয়, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়ায়।
এ ক্ষেত্রে টেলিহেলথ সেবা একটি বিকল্প হতে পারে। এর মাধ্যমে হাসপাতালে সরাসরি না গিয়েও চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাদাতার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
বাধা চেনা জরুরি
চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অনিচ্ছা নয়, আর্থিক চাপ, ভয়, সংকোচ, সময়ের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। এসব বাধা চিহ্নিত করতে পারলে নিজের বা প্রিয়জনের চিকিৎসা নেওয়ার পথে সমস্যাগুলো বুঝতে এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সুবিধা হয়।

আপনার মতামত লিখুন