বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ঋণের লাগামহীন চাপ সামাল দিতে কর ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের তৃতীয় দিনে ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এতে সরাসরি বক্তব্য রাখেন আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো সহজে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। তবে কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর যাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকির বড় অংশ প্রায়ই দরিদ্রদের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে কেবল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় কর সুবিধা প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উদাহরণ হিসেবে মিশরের ভ্যাট সংস্কার, আর্জেন্টিনার ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস এবং কলম্বিয়ার সরকারি ব্যয় কমানোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব।
অন্যদিকে, মরক্কো ও নাইজেরিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইএমএফ সতর্ক করে যে, ঢালাও ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম তহবিল গঠন এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বয়স্ক জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবায় নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বিশেষ করে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নীতিনির্ধারকদের টেকসই অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ঋণের লাগামহীন চাপ সামাল দিতে কর ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের তৃতীয় দিনে ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এতে সরাসরি বক্তব্য রাখেন আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো সহজে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। তবে কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর যাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকির বড় অংশ প্রায়ই দরিদ্রদের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে কেবল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় কর সুবিধা প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উদাহরণ হিসেবে মিশরের ভ্যাট সংস্কার, আর্জেন্টিনার ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস এবং কলম্বিয়ার সরকারি ব্যয় কমানোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব।
অন্যদিকে, মরক্কো ও নাইজেরিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইএমএফ সতর্ক করে যে, ঢালাও ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম তহবিল গঠন এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বয়স্ক জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবায় নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বিশেষ করে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নীতিনির্ধারকদের টেকসই অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন