সংবাদ

ঋণ পরিশোধের চাপে দিশেহারা দরিদ্র বিশ্ব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

ঋণ পরিশোধের চাপে দিশেহারা দরিদ্র বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

  • মূল্যস্ফীতি দমনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কড়া তাগিদ
  • সহজ শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ আইএমএফের
  • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ন্যায্য রাজস্ব নীতির ওপর জোর

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা নিম্নআয়ের দেশগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের কারণে নিম্নআয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং রাজস্ব আয়ের যে অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়, তা গত কয়েক বছরে ৮ শতাংশ থেকে একলাফে ১৪ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন।

আইএমএফ প্রধান বলেন, নিম্নআয়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ন্যায্য রাজস্ব নীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি ব্যয়ের সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির বিকাশ এবং সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

দরিদ্র দেশের মানুষের কাছে মূল্যস্ফীতি এক ধরনের পরোক্ষ করের মতো উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা একেবারেই পছন্দ করে না, বরং তারা সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নীতি এবং এমন পরিবেশ আশা করে যেখানে বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তারা সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে নিম্নআয়ের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে এদের অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

সংস্থার নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস ও প্রবৃদ্ধি সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে যোগ্য দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার বাড়ায় ঋণের অনুপাত কমলেও রাজস্বের বড় অংশ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে। তাই জি-২০-এর কমন ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর ঋণ পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে হবে।

সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান ও আইএমএফের কমিনিউকেশনস বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাকের উপস্থিতিতে তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সরকার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারলে তার সুফল সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ঋণ পরিশোধের চাপে দিশেহারা দরিদ্র বিশ্ব

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • মূল্যস্ফীতি দমনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কড়া তাগিদ
  • সহজ শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ আইএমএফের
  • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ন্যায্য রাজস্ব নীতির ওপর জোর

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা নিম্নআয়ের দেশগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের কারণে নিম্নআয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং রাজস্ব আয়ের যে অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়, তা গত কয়েক বছরে ৮ শতাংশ থেকে একলাফে ১৪ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন।

আইএমএফ প্রধান বলেন, নিম্নআয়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ন্যায্য রাজস্ব নীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি ব্যয়ের সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির বিকাশ এবং সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

দরিদ্র দেশের মানুষের কাছে মূল্যস্ফীতি এক ধরনের পরোক্ষ করের মতো উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা একেবারেই পছন্দ করে না, বরং তারা সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নীতি এবং এমন পরিবেশ আশা করে যেখানে বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তারা সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে নিম্নআয়ের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে এদের অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

সংস্থার নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস ও প্রবৃদ্ধি সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে যোগ্য দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার বাড়ায় ঋণের অনুপাত কমলেও রাজস্বের বড় অংশ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে। তাই জি-২০-এর কমন ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর ঋণ পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে হবে।

সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান ও আইএমএফের কমিনিউকেশনস বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাকের উপস্থিতিতে তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সরকার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারলে তার সুফল সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত