ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব দিন দিন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক নতুন নতুন সাইবার থ্রেট লেনদেনের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অবস্থিত কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অব ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে সংস্থাটি ডিজিটাল আর্থিক সেবার এই অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাহীনতার চিত্র তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট উল্লেখ করেন, ডিজিটালাইজেশনের কারণে লেনদেন এখন অনেক বেশি পরস্পর সংযুক্ত, যার ফলে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গ্রাহকের গোপন পাসওয়ার্ড বেহাত হওয়ার আশঙ্কা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে অংশ নিয়ে গ্রিসের সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ক্রিস্টিনা পাপাকনস্টান্টিনু বলেন, “এআই রিলেটেড সাইবার থ্রেট আছে; এই জন্য বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নাগরিকদের চাহিদা বুঝে এটা করতে হবে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কোন গ্রাহকের পাসওয়ার্ড বেহাত হতে পারে। ফলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাংক বহির্ভূত লেনদেনের নিরাপত্তায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।”
আইএমএফের উপ-পরিচালক মিকেলা এরবেনোভা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, “বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে। লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। এই জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সামগ্রিক ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই আমাদের কাজ করতে হবে।”
তিনি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয় উল্লেখ করে আরও যোগ করেন, “আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখনও নিরাপদ নয়। ক্রাইসিস গুলো শনাক্ত করে সমাধান বা সংস্কার করতে হবে। সরকারের নানা বডিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।”
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক খাতের তদারককারীদের আধুনিক দক্ষতায় সজ্জিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশগুলোর ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য সুপারভাইজারদের প্রযুক্তির সঠিক বোঝাপড়ার সাথে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কারণ অনেক সুপারভাইজারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত নতুন বিষয়। আঙুলের ডগায় প্রযুক্তি। আর্থিক খাতে কী ঘটছে তা বোঝার জন্য সুপারভাইজারদের প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে।”
আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি নিরূপণে বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে 'ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম' প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশগুলোর সম্ভাব্য সংকট ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি চিহ্নিত করা হয়।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পক্ষ থেকে ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেনের নিরাপত্তায় চার দফার সুপারিশ করা হয়। এতে মডুলার পদ্ধতি গ্রহণ, বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ও ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট জোরদার করা এবং প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ও সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব দিন দিন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক নতুন নতুন সাইবার থ্রেট লেনদেনের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অবস্থিত কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অব ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে সংস্থাটি ডিজিটাল আর্থিক সেবার এই অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাহীনতার চিত্র তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট উল্লেখ করেন, ডিজিটালাইজেশনের কারণে লেনদেন এখন অনেক বেশি পরস্পর সংযুক্ত, যার ফলে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গ্রাহকের গোপন পাসওয়ার্ড বেহাত হওয়ার আশঙ্কা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে অংশ নিয়ে গ্রিসের সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ক্রিস্টিনা পাপাকনস্টান্টিনু বলেন, “এআই রিলেটেড সাইবার থ্রেট আছে; এই জন্য বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নাগরিকদের চাহিদা বুঝে এটা করতে হবে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কোন গ্রাহকের পাসওয়ার্ড বেহাত হতে পারে। ফলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাংক বহির্ভূত লেনদেনের নিরাপত্তায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।”
আইএমএফের উপ-পরিচালক মিকেলা এরবেনোভা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, “বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে। লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। এই জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সামগ্রিক ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই আমাদের কাজ করতে হবে।”
তিনি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয় উল্লেখ করে আরও যোগ করেন, “আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখনও নিরাপদ নয়। ক্রাইসিস গুলো শনাক্ত করে সমাধান বা সংস্কার করতে হবে। সরকারের নানা বডিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।”
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক খাতের তদারককারীদের আধুনিক দক্ষতায় সজ্জিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশগুলোর ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য সুপারভাইজারদের প্রযুক্তির সঠিক বোঝাপড়ার সাথে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কারণ অনেক সুপারভাইজারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত নতুন বিষয়। আঙুলের ডগায় প্রযুক্তি। আর্থিক খাতে কী ঘটছে তা বোঝার জন্য সুপারভাইজারদের প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে।”
আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি নিরূপণে বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে 'ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম' প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশগুলোর সম্ভাব্য সংকট ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি চিহ্নিত করা হয়।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পক্ষ থেকে ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেনের নিরাপত্তায় চার দফার সুপারিশ করা হয়। এতে মডুলার পদ্ধতি গ্রহণ, বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ও ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট জোরদার করা এবং প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ও সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর প্রদান করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন