সংবাদ

নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে নিয়ে ভারতের নীরবতা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পিএম

নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে নিয়ে ভারতের নীরবতা

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিল্লাই। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বমঞ্চে অনন্য অর্জনের পর চার দিন পার হয়ে গেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাঁকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানো হয়নি।

সাধারণত বিশ্বমঞ্চে ভারতের সঙ্গে সামান্যতম যোগসূত্র থাকা কোনো ব্যক্তি সাফল্য লাভ করলেই দেশটি উল্লাসে মেতে ওঠে ও ব্যাপক প্রচার চালায়। কিন্তু নাভি পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের এই রহস্যময় নীরবতা দেশটিতে তীব্র বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৯ অক্টোবর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ভারতের সঙ্গে নাভি পিল্লাইয়ের গভীর ঐতিহাসিক ও পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে; তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে শ্রম দিতে আফ্রিকায় পাড়ি জমানো ভারতীয়দের উত্তরসূরি। ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার তীব্র সমালোচনা করেন এবং নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকেও নিশানা করেন।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে মোদী সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদী ইসরায়েল সফর করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নাভি পিল্লাইয়ের দৃঢ় অবস্থানই কি ভারত সরকারের অভিনন্দন না জানানোর মূল কারণ; এমন প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়সহ ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাঁকে অভিনন্দন জানালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে।

ইতিপূর্বেও দেখা গেছে, মোদী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বা মতাদর্শের সমালোচনা করা ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও সরকারিভাবে তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারজয়ী বানু মুশতাক ও গীতাঞ্জলি শ্রী, প্রখ্যাত সাংবাদিক রবীশ কুমার কিংবা মানবাধিকারকর্মী বেজওয়াদা উইলসনের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ আচরণ লক্ষ করা গেছে।

এতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মূল্যায়ন সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে নিয়ে ভারতের নীরবতা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিল্লাই। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বমঞ্চে অনন্য অর্জনের পর চার দিন পার হয়ে গেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাঁকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানো হয়নি।

সাধারণত বিশ্বমঞ্চে ভারতের সঙ্গে সামান্যতম যোগসূত্র থাকা কোনো ব্যক্তি সাফল্য লাভ করলেই দেশটি উল্লাসে মেতে ওঠে ও ব্যাপক প্রচার চালায়। কিন্তু নাভি পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের এই রহস্যময় নীরবতা দেশটিতে তীব্র বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৯ অক্টোবর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ভারতের সঙ্গে নাভি পিল্লাইয়ের গভীর ঐতিহাসিক ও পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে; তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে শ্রম দিতে আফ্রিকায় পাড়ি জমানো ভারতীয়দের উত্তরসূরি। ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার তীব্র সমালোচনা করেন এবং নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকেও নিশানা করেন।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে মোদী সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদী ইসরায়েল সফর করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নাভি পিল্লাইয়ের দৃঢ় অবস্থানই কি ভারত সরকারের অভিনন্দন না জানানোর মূল কারণ; এমন প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়সহ ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাঁকে অভিনন্দন জানালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে।

ইতিপূর্বেও দেখা গেছে, মোদী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বা মতাদর্শের সমালোচনা করা ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও সরকারিভাবে তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারজয়ী বানু মুশতাক ও গীতাঞ্জলি শ্রী, প্রখ্যাত সাংবাদিক রবীশ কুমার কিংবা মানবাধিকারকর্মী বেজওয়াদা উইলসনের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ আচরণ লক্ষ করা গেছে।

এতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মূল্যায়ন সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত