সংবাদ

সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গড়তে মা-বাবার করণীয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গড়তে মা-বাবার করণীয়

পরিবারের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই যে প্রত্যেকের সঙ্গে সন্তানের অবাধ মেলামেশা নিরাপদ হবে, এমন নয়। কিছু আত্মীয়ের আচরণ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার সহিংসতা, নির্যাতন কিংবা মাদকের অপব্যবহারের মতো পরিস্থিতি তার শারীরিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কখনো পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ক্ষতিকর আচরণ মেনে নেওয়া হয়, আবার কেউ মনে করেন, কঠিন অভিজ্ঞতা শিশুদের বাস্তবতা বুঝতে ও শক্ত হতে সাহায্য করবে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতির পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য না থাকলেও তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো ভাববেন

১. সন্তানের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

প্রথমেই বুঝতে হবে, আপনার উদ্বেগের কারণ কী। বিষয়টি কি সন্তানের মানসিক স্বস্তি নিয়ে, নাকি তার শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে? নির্যাতন, সহিংসতা, মাদকের অপব্যবহার কিংবা অনিরাপদ স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো ঝুঁকি থাকলে সন্তানের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে পারিবারিক সম্পর্কের কথা ভেবে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।

২. সমস্যা কি কেবল জীবনযাপনের নিয়ম নিয়ে?

আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে সন্তান বেশি সময় ফোন ব্যবহার করতে পারে কিংবা রাতে দেরিতে ঘুমাতে পারে। এসব অভ্যাস বিরক্তিকর হলেও সব ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয় না। বাড়িতে ফিরে আবার নিয়মিত রুটিনে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।

তাই সামান্য মতপার্থক্য আর প্রকৃত নিরাপত্তাঝুঁকিকে এক করে দেখা ঠিক নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মধ্যেই যে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা নয়। প্রয়োজনে রাতে থাকার পরিবর্তে শুধু দিনের বেলা দেখা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৩. পরিবারের মধ্যে সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় কে?

মা-বাবার পাশাপাশি পরিবারের এমন কোনো সদস্য আছেন কি না, খেয়াল করুন, যিনি সন্তানের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবেন এবং আপনার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলবেন। প্রয়োজন হলে তিনি অন্য আত্মীয়ের অনুপযুক্ত আচরণের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারবেন কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সন্তানকে কারও কাছে রেখে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হোন, ওই ব্যক্তি কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনাকে জানাবেন এবং শিশুর নিরাপত্তার বিষয়ে আপস করবেন না।

৪. আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করে সন্তান কেমন থাকে?

আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানোর পর সন্তানের আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না, তা লক্ষ করুন। সে ভয় পেয়েছে, অস্বস্তিতে আছে কিংবা কোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, যাতে সে নির্ভয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতাকে সন্তানের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। পরিবারের পরিবেশ এখন কেমন এবং সেখানে সন্তান বাস্তবে কতটা নিরাপদ, সেটিই বিবেচনার মূল বিষয়।

সন্তানকে কতটা মেলামেশার সুযোগ দেবেন?

আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো পারিবারিক সম্পর্কের অংশ হলেও সন্তানের জন্য উপযুক্ত সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শিশুদের বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা ভালো। তবে মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা দিতে গিয়ে তাকে অনিরাপদ পরিবেশে রাখা উচিত নয়।

শিশুর মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তার আচরণ, সামাজিক দক্ষতা ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কোন আত্মীয়ের সঙ্গে, কতক্ষণ এবং কী পরিস্থিতিতে সন্তান সময় কাটাবে, তা বুঝেশুনে ঠিক করুন।

সীমারেখা নির্ধারণে আপস নয়

সব আত্মীয় বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। মা-বাবা হিসেবে সন্তানের নিরাপত্তা ও স্বস্তির কথা বিবেচনা করে তার মেলামেশার সীমা নির্ধারণের অধিকার আপনার রয়েছে।

আপনার সিদ্ধান্তে পরিবারের কেউ অসন্তুষ্ট হলেও সন্তানের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ক্ষতিকর আচরণ থেকে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা - দুটিই সম্ভব, যদি প্রয়োজন অনুযায়ী স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গড়তে মা-বাবার করণীয়

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পরিবারের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই যে প্রত্যেকের সঙ্গে সন্তানের অবাধ মেলামেশা নিরাপদ হবে, এমন নয়। কিছু আত্মীয়ের আচরণ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার সহিংসতা, নির্যাতন কিংবা মাদকের অপব্যবহারের মতো পরিস্থিতি তার শারীরিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কখনো পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ক্ষতিকর আচরণ মেনে নেওয়া হয়, আবার কেউ মনে করেন, কঠিন অভিজ্ঞতা শিশুদের বাস্তবতা বুঝতে ও শক্ত হতে সাহায্য করবে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতির পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য না থাকলেও তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো ভাববেন

১. সন্তানের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

প্রথমেই বুঝতে হবে, আপনার উদ্বেগের কারণ কী। বিষয়টি কি সন্তানের মানসিক স্বস্তি নিয়ে, নাকি তার শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে? নির্যাতন, সহিংসতা, মাদকের অপব্যবহার কিংবা অনিরাপদ স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো ঝুঁকি থাকলে সন্তানের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে পারিবারিক সম্পর্কের কথা ভেবে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।

২. সমস্যা কি কেবল জীবনযাপনের নিয়ম নিয়ে?

আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে সন্তান বেশি সময় ফোন ব্যবহার করতে পারে কিংবা রাতে দেরিতে ঘুমাতে পারে। এসব অভ্যাস বিরক্তিকর হলেও সব ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয় না। বাড়িতে ফিরে আবার নিয়মিত রুটিনে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।

তাই সামান্য মতপার্থক্য আর প্রকৃত নিরাপত্তাঝুঁকিকে এক করে দেখা ঠিক নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মধ্যেই যে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা নয়। প্রয়োজনে রাতে থাকার পরিবর্তে শুধু দিনের বেলা দেখা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৩. পরিবারের মধ্যে সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় কে?

মা-বাবার পাশাপাশি পরিবারের এমন কোনো সদস্য আছেন কি না, খেয়াল করুন, যিনি সন্তানের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবেন এবং আপনার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলবেন। প্রয়োজন হলে তিনি অন্য আত্মীয়ের অনুপযুক্ত আচরণের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারবেন কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সন্তানকে কারও কাছে রেখে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হোন, ওই ব্যক্তি কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনাকে জানাবেন এবং শিশুর নিরাপত্তার বিষয়ে আপস করবেন না।

৪. আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করে সন্তান কেমন থাকে?

আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানোর পর সন্তানের আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না, তা লক্ষ করুন। সে ভয় পেয়েছে, অস্বস্তিতে আছে কিংবা কোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, যাতে সে নির্ভয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতাকে সন্তানের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। পরিবারের পরিবেশ এখন কেমন এবং সেখানে সন্তান বাস্তবে কতটা নিরাপদ, সেটিই বিবেচনার মূল বিষয়।

সন্তানকে কতটা মেলামেশার সুযোগ দেবেন?

আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো পারিবারিক সম্পর্কের অংশ হলেও সন্তানের জন্য উপযুক্ত সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শিশুদের বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা ভালো। তবে মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা দিতে গিয়ে তাকে অনিরাপদ পরিবেশে রাখা উচিত নয়।

শিশুর মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তার আচরণ, সামাজিক দক্ষতা ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কোন আত্মীয়ের সঙ্গে, কতক্ষণ এবং কী পরিস্থিতিতে সন্তান সময় কাটাবে, তা বুঝেশুনে ঠিক করুন।

সীমারেখা নির্ধারণে আপস নয়

সব আত্মীয় বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। মা-বাবা হিসেবে সন্তানের নিরাপত্তা ও স্বস্তির কথা বিবেচনা করে তার মেলামেশার সীমা নির্ধারণের অধিকার আপনার রয়েছে।

আপনার সিদ্ধান্তে পরিবারের কেউ অসন্তুষ্ট হলেও সন্তানের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ক্ষতিকর আচরণ থেকে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা - দুটিই সম্ভব, যদি প্রয়োজন অনুযায়ী স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত