সংবাদ

কুমিল্লার অপ্রতীম হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ এএম

কুমিল্লার অপ্রতীম হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল
ছবি : সংবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনায় সিয়াম নামের আরেকজন জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে তীব্র বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে প্রথমে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর আসামিরা মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

সন্তান হারানো বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘একমাত্র ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা নিমিষেই কেড়ে নিয়েছে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে এই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি চাই, যাতে বয়সের ব্যবধানে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে তারা পার পেয়ে যেতে না পারে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


কুমিল্লার অপ্রতীম হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনায় সিয়াম নামের আরেকজন জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে তীব্র বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে প্রথমে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর আসামিরা মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

সন্তান হারানো বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘একমাত্র ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা নিমিষেই কেড়ে নিয়েছে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে এই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি চাই, যাতে বয়সের ব্যবধানে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে তারা পার পেয়ে যেতে না পারে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত