সংবাদ

পরকীয়ার অপবাদে নারীকে নির্মম নির্যাতন! মা-ছেলে গ্রেপ্তার


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

পরকীয়ার অপবাদে নারীকে নির্মম নির্যাতন! মা-ছেলে গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি।

ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় করাতীপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মাথার চুল কেটে গায়ে মরিচ ছিটিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলার হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত হলেন- মামলার প্রধান আসামি করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আন্নি খাতুন (৪৫) ও তার ছেলে অনি হোসেন (২৬)।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম, গোয়েন্দা পুলিশ এবং সদর থানা পুলিশের টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

এক পর্যায়ে শনিবার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় মামলার প্রধান আসামি আন্নি খাতুন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২নং আসামি অনি হোসেনকে ঝিনাইদহ সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।

সদর থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহের জেরে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়।

ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে বসে ছিলেন ওই নারী। এসময় পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে করাতিপাড়ার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাসিয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে  প্রবেশ করে।

এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর মাথার চুল কেটে দেয়।শরীরে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয়। এসময় ওই নারীর চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেয়। পরে রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর শনিবার দুপুরে হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


পরকীয়ার অপবাদে নারীকে নির্মম নির্যাতন! মা-ছেলে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় করাতীপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মাথার চুল কেটে গায়ে মরিচ ছিটিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলার হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত হলেন- মামলার প্রধান আসামি করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আন্নি খাতুন (৪৫) ও তার ছেলে অনি হোসেন (২৬)।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম, গোয়েন্দা পুলিশ এবং সদর থানা পুলিশের টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

এক পর্যায়ে শনিবার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় মামলার প্রধান আসামি আন্নি খাতুন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২নং আসামি অনি হোসেনকে ঝিনাইদহ সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।

সদর থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহের জেরে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়।

ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে বসে ছিলেন ওই নারী। এসময় পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে করাতিপাড়ার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাসিয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে  প্রবেশ করে।

এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর মাথার চুল কেটে দেয়।শরীরে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয়। এসময় ওই নারীর চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেয়। পরে রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর শনিবার দুপুরে হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত