সংবাদ

জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে ছোট ভাই আলমগীরকে দায়ী করলেন স্ত্রী


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ এএম

জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে ছোট ভাই আলমগীরকে দায়ী করলেন স্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী। ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন এলাকায় আলোচিত মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই ও বিএনপি নেতা আলমগীর শিকদারকে অভিযুক্ত করেছেন নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ও মামলার বাদী তাসলিমা আক্তার।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসলিমা আক্তার বলেন, 'আমার স্বামী জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার ছোট ভাই আলমগীর শিকদারের তীব্র বিরোধ ছিল। আলমগীর তাকে হত্যা করতে পারে–এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে জাহাঙ্গীর মৃত্যুর কিছুদিন আগেই থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই আশঙ্কা আজ সত্যি হয়েছে।'

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিতে গিয়ে জনগণের হাতে আটক আসামি হেলাল কারাগার থেকে ফোন করে তাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। রিমান্ডে আলমগীরের নাম বলায় মিঠামইন থানার ওসি মনোজ কুমার হেলুকে মারধর ও শরীরে ইনজেকশন পুশ করেছেন, যার কারণে বাধ্য হয়ে হেলু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আলমগীরের নাম বলেননি। পুলিশ ও ডিবি পুলিশের এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।

তাসলিমা আক্তার বলেন, 'এই হত্যাকাণ্ডে গোপদিঘী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক বাচ্চুও অন্যতম অভিযুক্ত। খুনিদের ভাড়া করা, লালন-পালন করা এবং তাদের থাকার জন্য বাসা ভাড়া করে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাচ্চুর জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ রয়েছে। অথচ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।'

তিনি আরও দাবি করেন, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা খোকাকে গ্রেপ্তারের পর বাদীকে না জানিয়ে আলমগীর শিকদারের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্বয়ং ওসি। আসামিদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সহযোগিতা করে ওসি মনোয়ার হোসেন এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া মামলার শুরুতেই সন্দেহভাজন হিসেবে আলমগীর শিকদারের পাসপোর্ট জব্দ করা হলেও পরবর্তীতে কীভাবে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। মিঠামইন থানা থেকে মামলা ডিবিতে স্থানান্তরের পর থেকেই আলমগীর শিকদার পলাতক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত জাহাঙ্গীরের বড় বোন নাদিরা পারভীন বলেন, 'আমরা যাতে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করি, সেজন্য আলমগীর আমাদের ভাইবোনদের ফোনে হুমকি দিচ্ছে।' এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ জনগণ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিল শেষে সমাবেশে দ্রুত মাস্টারমাইন্ডসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

তবে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আসামি হেলাল ও বাদীর ফোনকল রেকর্ড নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে ছোট ভাই আলমগীরকে দায়ী করলেন স্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন এলাকায় আলোচিত মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই ও বিএনপি নেতা আলমগীর শিকদারকে অভিযুক্ত করেছেন নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ও মামলার বাদী তাসলিমা আক্তার।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসলিমা আক্তার বলেন, 'আমার স্বামী জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার ছোট ভাই আলমগীর শিকদারের তীব্র বিরোধ ছিল। আলমগীর তাকে হত্যা করতে পারে–এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে জাহাঙ্গীর মৃত্যুর কিছুদিন আগেই থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই আশঙ্কা আজ সত্যি হয়েছে।'

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিতে গিয়ে জনগণের হাতে আটক আসামি হেলাল কারাগার থেকে ফোন করে তাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। রিমান্ডে আলমগীরের নাম বলায় মিঠামইন থানার ওসি মনোজ কুমার হেলুকে মারধর ও শরীরে ইনজেকশন পুশ করেছেন, যার কারণে বাধ্য হয়ে হেলু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আলমগীরের নাম বলেননি। পুলিশ ও ডিবি পুলিশের এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।

তাসলিমা আক্তার বলেন, 'এই হত্যাকাণ্ডে গোপদিঘী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক বাচ্চুও অন্যতম অভিযুক্ত। খুনিদের ভাড়া করা, লালন-পালন করা এবং তাদের থাকার জন্য বাসা ভাড়া করে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাচ্চুর জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ রয়েছে। অথচ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।'

তিনি আরও দাবি করেন, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা খোকাকে গ্রেপ্তারের পর বাদীকে না জানিয়ে আলমগীর শিকদারের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্বয়ং ওসি। আসামিদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সহযোগিতা করে ওসি মনোয়ার হোসেন এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া মামলার শুরুতেই সন্দেহভাজন হিসেবে আলমগীর শিকদারের পাসপোর্ট জব্দ করা হলেও পরবর্তীতে কীভাবে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। মিঠামইন থানা থেকে মামলা ডিবিতে স্থানান্তরের পর থেকেই আলমগীর শিকদার পলাতক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত জাহাঙ্গীরের বড় বোন নাদিরা পারভীন বলেন, 'আমরা যাতে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করি, সেজন্য আলমগীর আমাদের ভাইবোনদের ফোনে হুমকি দিচ্ছে।' এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ জনগণ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিল শেষে সমাবেশে দ্রুত মাস্টারমাইন্ডসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

তবে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আসামি হেলাল ও বাদীর ফোনকল রেকর্ড নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত