সংবাদ

৫৩ বছরেও ফিট মালাইকা, সুস্থ থাকার ৭ অভ্যাস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

৫৩ বছরেও ফিট মালাইকা, সুস্থ থাকার ৭ অভ্যাস

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার পরিচিতি শুধু নাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ২৩ অক্টোবর ৫৩ বছরে পা দেওয়া এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

মালাইকার দৈনন্দিন অভ্যাসে যোগব্যায়াম, শক্তিবর্ধক শরীরচর্চা, ঘরোয়া খাবার এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর এসব অভ্যাস থেকে সুস্থ জীবনযাপনের কিছু কার্যকর দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

১. যোগব্যায়াম দিয়ে দিনের শুরু

মালাইকার শরীরচর্চার অন্যতম অংশ যোগব্যায়াম। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত যোগচর্চা করে আসছেন তিনি। তাঁর অনুশীলনে রয়েছে সূর্য নমস্কার, অষ্টাঙ্গ বিন্যাস যোগ ও ধ্যান।

নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পেশির শক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। তবে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা নিজের শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

২. পেশির শক্তি বাড়াতে নিয়মিত ওয়ার্কআউট

শুধু যোগব্যায়াম নয়, মালাইকার শরীরচর্চার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও। তাঁর ওয়ার্কআউটের ভিডিওতে ওয়াকিং লাঞ্জেস, ডাম্বেল দিয়ে ব্যায়াম, মাউন্টেন ক্লাইম্বারস ও পেটের পেশির অনুশীলন দেখা গেছে। পিলেটসও তাঁর শরীরচর্চার অংশ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পেশি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নমনীয়তা ও ভারসাম্য ধরে রাখার ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. খাদ্যতালিকায় ঘরোয়া খাবার

খাবারের ক্ষেত্রে জটিল খাদ্যতালিকার পরিবর্তে সাধারণ ঘরোয়া খাবারের প্রতি আগ্রহ রয়েছে মালাইকার। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। খাবারের পরিমাণের বিষয়েও সচেতন তিনি। ঘি তাঁর পছন্দের খাবারগুলোর একটি বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে দামি উপকরণ থাকা জরুরি নয়। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, দই, ফলমূল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়েই সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব। তবে কতটুকু ও কী ধরনের খাবার প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও পুষ্টির চাহিদার ওপর নির্ভর করে।

৪. খাবারের পরিমাণেও নজর

মালাইকা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। বড় প্লেটের বদলে ছোট বাটি বা কটোরিতে খাবার নেওয়ার অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এভাবে খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হতে পারে। তবে পরিমিত খাওয়ার অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া নয়। বরং শরীরের ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার সংকেত বুঝে প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়া শেষ

মালাইকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত দুপুরের দিকে তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ খাবার খাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দিনের খাবার শেষ করারও চেষ্টা করেন তিনি। তবে এ ধরনের সময়সূচি সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। ব্যক্তির দৈনন্দিন রুটিন ও পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের সময় নির্ধারণ করা জরুরি।

৬. ঘুম ও পানি পানের অভ্যাস

শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পানেও গুরুত্ব দেন মালাইকা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতন থাকার কথা জানিয়েছেন।

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, ব্যায়ামের পর পুনরুদ্ধার এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার জন্য ঘুম ও পানির প্রয়োজন রয়েছে। তাই ফিটনেসের পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে অবহেলা করা উচিত নয়।

৭. ধারাবাহিকতাই ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি

মালাইকার জীবনযাপনের অভ্যাস থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট - সুস্থ থাকার জন্য শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যায়াম কিংবা খাবারের ওপর নির্ভর করলে চলে না। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস একসঙ্গে বজায় রাখা প্রয়োজন।

ফিট থাকার জন্য হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করা কিংবা অতিরিক্ত বিধিনিষেধযুক্ত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করাও জরুরি নয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তা নিয়মিত বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

মালাইকা অরোরার জীবনযাপনের এই দিকগুলো মনে করিয়ে দেয়, ফিটনেস কোনো সাময়িক লক্ষ্য নয়। বরং প্রতিদিনের সচেতনতা ও ধারাবাহিক যত্নের মধ্য দিয়েই সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে ওঠে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


৫৩ বছরেও ফিট মালাইকা, সুস্থ থাকার ৭ অভ্যাস

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার পরিচিতি শুধু নাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ২৩ অক্টোবর ৫৩ বছরে পা দেওয়া এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

মালাইকার দৈনন্দিন অভ্যাসে যোগব্যায়াম, শক্তিবর্ধক শরীরচর্চা, ঘরোয়া খাবার এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর এসব অভ্যাস থেকে সুস্থ জীবনযাপনের কিছু কার্যকর দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

১. যোগব্যায়াম দিয়ে দিনের শুরু

মালাইকার শরীরচর্চার অন্যতম অংশ যোগব্যায়াম। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত যোগচর্চা করে আসছেন তিনি। তাঁর অনুশীলনে রয়েছে সূর্য নমস্কার, অষ্টাঙ্গ বিন্যাস যোগ ও ধ্যান।

নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পেশির শক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। তবে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা নিজের শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

২. পেশির শক্তি বাড়াতে নিয়মিত ওয়ার্কআউট

শুধু যোগব্যায়াম নয়, মালাইকার শরীরচর্চার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও। তাঁর ওয়ার্কআউটের ভিডিওতে ওয়াকিং লাঞ্জেস, ডাম্বেল দিয়ে ব্যায়াম, মাউন্টেন ক্লাইম্বারস ও পেটের পেশির অনুশীলন দেখা গেছে। পিলেটসও তাঁর শরীরচর্চার অংশ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পেশি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নমনীয়তা ও ভারসাম্য ধরে রাখার ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. খাদ্যতালিকায় ঘরোয়া খাবার

খাবারের ক্ষেত্রে জটিল খাদ্যতালিকার পরিবর্তে সাধারণ ঘরোয়া খাবারের প্রতি আগ্রহ রয়েছে মালাইকার। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। খাবারের পরিমাণের বিষয়েও সচেতন তিনি। ঘি তাঁর পছন্দের খাবারগুলোর একটি বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে দামি উপকরণ থাকা জরুরি নয়। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, দই, ফলমূল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়েই সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব। তবে কতটুকু ও কী ধরনের খাবার প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও পুষ্টির চাহিদার ওপর নির্ভর করে।

৪. খাবারের পরিমাণেও নজর

মালাইকা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। বড় প্লেটের বদলে ছোট বাটি বা কটোরিতে খাবার নেওয়ার অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এভাবে খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হতে পারে। তবে পরিমিত খাওয়ার অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া নয়। বরং শরীরের ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার সংকেত বুঝে প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়া শেষ

মালাইকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত দুপুরের দিকে তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ খাবার খাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দিনের খাবার শেষ করারও চেষ্টা করেন তিনি। তবে এ ধরনের সময়সূচি সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। ব্যক্তির দৈনন্দিন রুটিন ও পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের সময় নির্ধারণ করা জরুরি।

৬. ঘুম ও পানি পানের অভ্যাস

শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পানেও গুরুত্ব দেন মালাইকা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতন থাকার কথা জানিয়েছেন।

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, ব্যায়ামের পর পুনরুদ্ধার এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার জন্য ঘুম ও পানির প্রয়োজন রয়েছে। তাই ফিটনেসের পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে অবহেলা করা উচিত নয়।

৭. ধারাবাহিকতাই ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি

মালাইকার জীবনযাপনের অভ্যাস থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট - সুস্থ থাকার জন্য শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যায়াম কিংবা খাবারের ওপর নির্ভর করলে চলে না। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস একসঙ্গে বজায় রাখা প্রয়োজন।

ফিট থাকার জন্য হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করা কিংবা অতিরিক্ত বিধিনিষেধযুক্ত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করাও জরুরি নয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তা নিয়মিত বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

মালাইকা অরোরার জীবনযাপনের এই দিকগুলো মনে করিয়ে দেয়, ফিটনেস কোনো সাময়িক লক্ষ্য নয়। বরং প্রতিদিনের সচেতনতা ও ধারাবাহিক যত্নের মধ্য দিয়েই সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে ওঠে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত