সংবাদ

নিহত বেড়ে ১১

ইনানীর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

ইনানীর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার 'টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে' ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর নিখোঁজ এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১-তে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে ওই শিক্ষিকার কঙ্কালসদৃশ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গলায় থাকা লকেট দেখে মরদেহটি নিজের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার বলে শনাক্ত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার 'স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের' শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে তারা মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, সোমবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে পূর্বে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজ মুক্তার নমুনার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপ, আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়ে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। মুক্তা তখন কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুই বান্ধবী বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেতরে থাকা মুক্তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

১০ জনের মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর

এদিকে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডে নিহত অপর ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নিহতদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ১০ সদস্য রয়েছেন। একটি পরিবারের চার সদস্য হলেন— গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের ছয় সদস্য হলেন— ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।

নিহত নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রিসোর্টটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ইনানীর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার 'টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে' ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর নিখোঁজ এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১-তে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে ওই শিক্ষিকার কঙ্কালসদৃশ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গলায় থাকা লকেট দেখে মরদেহটি নিজের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার বলে শনাক্ত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার 'স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের' শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে তারা মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, সোমবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে পূর্বে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজ মুক্তার নমুনার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপ, আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়ে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। মুক্তা তখন কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুই বান্ধবী বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেতরে থাকা মুক্তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

১০ জনের মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর

এদিকে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডে নিহত অপর ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নিহতদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ১০ সদস্য রয়েছেন। একটি পরিবারের চার সদস্য হলেন— গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের ছয় সদস্য হলেন— ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।

নিহত নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রিসোর্টটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত