সংবাদ

ডোমারে সাব-স্টেশনের জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন


প্রতিনিধি, ডোমার (নীলফামারী)
প্রতিনিধি, ডোমার (নীলফামারী)
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

ডোমারে সাব-স্টেশনের জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি : সংবাদ

গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে নীলফামারীর ডোমারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বড় রাউতা গ্রামের সাহার উদ্দিন পাড়া এলাকায় মহাসড়কের ওপর এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, ‘ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন প্রকল্পের’ আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য ৪৯৭ শতাংশ তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

জমির মালিকেরা বলেন, সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি মূল্যায়নে প্রকৃত বাজারদরের প্রতিফলন ঘটেনি। এই স্বল্পমূল্যে অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কেনা অসম্ভব। ফলে জমি হারিয়ে অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

তারা আরও জানান, সাব-স্টেশন বা উন্নয়ন কাজের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অবস্থান নেই। তবে বাজারমূল্য বিবেচনা করে প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জমি প্রতি আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। অথচ এই দামে বর্তমানে জমি কেনা সম্ভব নয়। ন্যায্যমূল্য না পেলে প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও জমি ছাড়ব না।’

আরেক জমির মালিক রূপালী বেগম বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। আমাদের এই তিন ফসলি জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়। এই টাকায় জমি বিক্রি করে আমাদের পথে বসার উপক্রম হবে।’

জমির মালিক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তারা মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে জমির ন্যায্যমূল্য পরিশোধের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নিতে সরকারের উচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ডোমারে সাব-স্টেশনের জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে নীলফামারীর ডোমারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বড় রাউতা গ্রামের সাহার উদ্দিন পাড়া এলাকায় মহাসড়কের ওপর এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, ‘ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন প্রকল্পের’ আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য ৪৯৭ শতাংশ তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

জমির মালিকেরা বলেন, সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি মূল্যায়নে প্রকৃত বাজারদরের প্রতিফলন ঘটেনি। এই স্বল্পমূল্যে অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কেনা অসম্ভব। ফলে জমি হারিয়ে অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

তারা আরও জানান, সাব-স্টেশন বা উন্নয়ন কাজের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অবস্থান নেই। তবে বাজারমূল্য বিবেচনা করে প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জমি প্রতি আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। অথচ এই দামে বর্তমানে জমি কেনা সম্ভব নয়। ন্যায্যমূল্য না পেলে প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও জমি ছাড়ব না।’

আরেক জমির মালিক রূপালী বেগম বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। আমাদের এই তিন ফসলি জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়। এই টাকায় জমি বিক্রি করে আমাদের পথে বসার উপক্রম হবে।’

জমির মালিক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তারা মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে জমির ন্যায্যমূল্য পরিশোধের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নিতে সরকারের উচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত